বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, গোদাগাড়ী: রাজশাহীতে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সনাতনীদের মিলনমেলা পণ্ড করার অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খেতুরী ধামে শুক্রবার ১৩জুন এই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়েরও অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মিলনমেলাটি হয়নি।
শনিবার গোদাগাড়ী উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছে, গোদাগাড়ীর মাটিকাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এহসানুল কবির টুকুর কারণে অনুষ্ঠানটি হয়নি।
শনিবার বেলা ১২টায় রাজশাহী মাহনগর ও জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়েই এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক উপেন্দ্রনাথ মণ্ডল।
তিনি দাবি করেন, শুক্রবার উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট খেতুরী ধামে ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছিল। খেতুরী ধাম ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমতিও দিয়েছিল। কিন্তু আগের দিন বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এহসানুল কবির টুকু অনুষ্ঠান আয়োজনে বাগড়া দেন। তিনি সহদেব কুমার পান্না নামের এক ভক্তকে মারধর করে ধাম থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে এ অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানান।
জানতে চাইলে এহসানুল কবির টুকু বলেন, ‘গত ১০ জুন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার আমাকে ফোন করে জানান, তারা একটা প্রোগ্রাম করবেন। এখানে কেন্দ্রীয় নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আসবেন। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দেবাশীষ রায় মধুও আমাকে ফোন করেন। আমার ইউনিয়নে প্রোগ্রাম বলে আমি সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। গত বৃহস্পতিবার আমি মন্দিরে প্রস্তুতি দেখতে যাই। সেখানে গিয়ে আমি সহদেব কুমার পান্নাকে দেখতে পাই। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তাকে আমি চলে যেতে বলেছিলাম। কারণ, এটা বিএনপির প্রোগ্রাম। আওয়ামী লীগ বিশৃঙ্খলা করতে পারে।’
মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি দাবি করে এহসানুল কবির টুকু বলেন, ‘জেলার নেতা বিশ্বনাথ সরকার ও দেবাশীষ রায় মধু বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে বলেছেন যে আমি নাকি মারধর করেছি। এটা নিয়ে তোলপাড়। পুলিশ গিয়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করে এ রকম কিছু পায়নি।’
টুকু দাবি করেন, ‘ওই দুই নেতা ধামের ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে চান। নানা অনিয়মের কারণে ৫ আগস্টের পরে ট্রাস্টি বোর্ড থেকে সুনন্দন দাস রতন নামের একজনকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের নেতারা এই রতনের গাড়িতে চড়েন। রতন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর ভীষণ ঘনিষ্ঠ। দলীয় পদে আছেন। উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীও হয়েছিলেন। আমাদের নেতারা এখন আবার এই রতনকেই ট্রাস্টি বোর্ডে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।’
মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে, সহদেব কুমার পান্না বলেন, ঐ দিন আমাকে খেতুর ধামে মারধর করে। প্রাণ ভয়ে আমি কোনো রকম পালিয়ে এসেছিলাম। এখনো আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করছেন।
জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার বলেন, ‘আমি রতনকে চিনিই না। তার গাড়িতে চড়ার প্রশ্নই ওঠে না। সহদেব কুমার পান্নাকেও চিনি না। সে আওয়ামী লীগ করুক, আর যা-ই করুক, সে একজন হিন্দু লোক হিসেবে মন্দিরে যেতেই পারে। সেখানে অন্য ধর্মের লোক হয়ে টুকু তাকে কীভাবে বের করে দিতে পারে? ঘটনার দিন আমার ভাতিজা আলো মাস্টার ছিল। তার সামনেই টুকু সহদেব কুমার পান্নাকে মেরেছে।’
আওয়ামী লীগ নেতা সুনন্দন দাস রতনকে চেনেন না দাবি করে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দেবাশিষ রায় মধু বলেন, ‘ট্রাস্টি বোর্ড বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর গঠন করে দেয়া। কমিটিতে যারা আছে, তারা সবাই আওয়ামী লীগ করে। আমরা এটা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কারণ, হিন্দু কমিউনিটির সবাই এটা চায়। সে জন্যই মিলনমেলা ও আলোচনা সভার আয়োজন ছিল। এহসানুল কবির টুকু সেটা ভেস্তে দিয়েছেন। তিনি অন্য ধর্মের লোক হয়ে হিন্দু লোককে মন্দির থেকে বের করে ঠিক করেননি।’