বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
সাইফুল ইসলাম, গোদাগাড়ী :
আসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুর সংখ্যা চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। ভারতীয় গরুর আমদানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় খামারি ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেড়েছে পশু পালন ও খামার গড়ে তোলায়। ফলে উপজেলায় কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি তো নেই-ই, বরং বাড়তি পশুও রয়েছে বিক্রির জন্য।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, উপজেলায় কোরবানির জন্য চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৫০টি পশুর। কিন্তু এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৭টি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ৫ হাজার ৯৮৭টি পশু বেশি রয়েছে। অতিরিক্ত এসব পশু অন্যান্য জেলায় পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
গেল কয়েক বছর ভারতীয় গরু আসার পথ বন্ধ হওয়ায় নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় খামারিরা। আগে ভারতীয় গরুর প্রাচুর্যে সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে গরু-ছাগল পালনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন অনেকে। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় এখন বাড়ি বাড়ি গরু-ছাগল পালন করছেন কৃষক ও খামারিরা কোরবানির পশু উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এতে একদিকে যেমন পশুর চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে সৃষ্টি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানও।
গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মাদারপুর মহল্লার খামারি আলমগীর জানান, তার খামারে ৫৫টি বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। কোরবানির অল্প সময় থাকায় তিনি বাড়তি পরিচর্যা নিচ্ছেন। আলমঙ্গীর বলেন, ‘গরুগুলো চার মাস ধরে লালন-পালন করছি। তার খামারে ২ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা দামের গরু রয়েছে। কোরবানির এক সপ্তাহ আগে থেকে লাইভ ওয়েট অনলাইনে মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলা বিক্রি শুরু করবো। যদি খামারে বিক্রি না হয়, তাহলে ঢাকা, চট্টোগ্রাম ও সিলেটের হাটে তুলবো। ইচ্ছে আছে খামার থেকে বিক্রি করার। সব খাবারই কিনে খাওয়াতে হয়। গতবারের চেয়ে এবার পশু খাদ্যের দাম বেশি। ঘাস, ভুট্টা, খৈল ও বিভিন্ন ধরনের ভুসির দাম বেড়েছে। তাতে করে বোঝা যাচ্ছে, দাম কিছুটা বেশি হতে পারে। কারণ গরুর মাংসের দাম বেড়ে একটা জায়গায় স্থির হয়েছে। কিন্তু গোখাদ্যের দাম সপ্তাহ সপ্তাহ বাড়তেই আছে।
প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, উপজেলায় এবার ঈদ উপলক্ষে পশু বেচাকেনার জন্য দুটি স্থায়ী হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, যারা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, গর্ভবতী গাভী শনাক্তকরণ এবং রোগপ্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে চালু রাখা হয়েছে লাইভ ওয়েট অনলাইন প্লাটফর্ম, যার মাধ্যমে দেশের যেকোনো স্থান থেকে পশু কেনাবেচা করা যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে এবারের কোরবানির পশুর বাজার স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু থাকবে।
গোদাগাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শায়লা শারমিন জানান, কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে গরু রয়েছে ২৯ হাজার ১৬৬টি, মহিষ ২ হাজার ৪৭৯টি, ছাগল ৭৯ হাজার ২০০টি এবং ভেড়া রয়েছে ৮ হাজার ৯২টি।
তিনি বলেন, “স্থানীয় পর্যায়ে পশু উৎপাদন বেড়েছে, ফলে বাইরের জেলার ওপর নির্ভরতা নেই। প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
এদিকে কোরবানির পশুর হাট এবং সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ‘পথে চাঁদাবাজি রোধ, হাটে নিরাপদ আর্থিক লেনদেন এবং ক্রেতাদের নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যরা মাঠে থাকবে। টহল ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।’
সার্বিক বিবেচনায় ঈদুল আজহার পশুবাজারকে ঘিরে গোদাগাড়ীতে এবার চাঙ্গা অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় উদ্যোগ, সরকারি সহায়তা ও পর্যাপ্ত পশুর জোগান মিলে গোদাগাড়ী এবার কোরবানির সময়টাকে রূপ দিতে যাচ্ছে এক সফল উৎসবে।
সানশাইন / সাইফুল/শামি