সর্বশেষ সংবাদ :

গ্রিসে অগ্নিকাণ্ড: বাংলাদেশি কৃষিশ্রমিকদের বাসস্থান পুড়ে ছাই

সানশাইন ডেস্ক: প্রবাস জীবনের দীর্ঘ ১০ বছর পর প্রথমবারের মতো ছুটিতে দেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। চলতি মাসের ১৮ তারিখ ছিল তার নির্ধারিত ফ্লাইট। ব্যস্ত ছিলেন আত্মীয়-স্বজনদের জন্য উপহার কিনতে।
কিন্তু তার আগেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে গ্রিস প্রবাসী রফিকুল ইসলামের পাসপোর্ট, রেসিডেন্স কার্ড, নগদ অর্থ ও বিমান টিকেটসহ সব মালামাল। গ্রিসের পশ্চিমাঞ্চলের ইলিয়া প্রদেশে নেয়া মানোলাদা এলাকায় মঙ্গলবার এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে পুড়ে গেছে প্রায় ৭ শতাধিক বাংলাদেশি কৃষিশ্রমিকের অস্থায়ী বাসস্থান, স্থানীয়ভাবে এটি পরিচিত ‘পারাঙ্গা’ নামে।
ভগ্নহৃদয়ে প্রবাসী রফিকুল বলেন, “সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। দেশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন কীভাবে দেশে যাব, কিছুই বুঝতে পারছি না।” ঘটনার পরদিন গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব রাবেয়া বেগমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং নতুন পাসপোর্টসহ অন্যান্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে অনেকের ধারণা। এতে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের খাবার, পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সংকট দেখা দিয়েছে। আশরাফুল ইসলাম নামের আরেক প্রবাসী বলেন, “আমাদের থাকার জায়গা, খাবার, পাসপোর্ট, নথিপত্র- সবকিছু পুড়ে গেছে। এখন খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে। সরকারি সাহায্য না পেলে কীভাবে বাঁচব, জানি না।”
ভুক্তভোগী প্রবাসী সুমন আহমেদ বলেন, “বৈধতা পাওয়ার জন্য কয়েক বছর ধরে বসবাসের বিভিন্ন ডকুমেন্ট সংগ্রহ করছিলাম। আগুনে সব শেষ। এখন কী করবো কিছুই বুঝতেছি না।” দূতাবাসের প্রথম সচিব রাবেয়া বেগম বলেন, “গ্রিসে স্ট্রবেরি চাষ ইউরোপজুড়ে পরিচিত। এতে কাজ করা শ্রমিকরা অধিকাংশই বাংলাদেশি। ইলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কৃষিশ্রমিক কাজ করেন প্রতি মৌসুমে।”
কিন্তু এ কৃষিশ্রমিকদেরই বসবাসের ব্যবস্থা ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও অমানবিক’ বলে অভিযোগ করেন এথেন্সে বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতারা। তারা জানান, অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসীদের স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তাদের জন্য জরুরি প্রশাসনিক সহায়তা ও মানবিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ঘটনায় স্থানীয় মেয়র, দমকল বাহিনী ও বিভিন্ন মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা। প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য স্থায়ী ও নিরাপদ আবাসন নির্মাণ করতে স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।


প্রকাশিত: May 16, 2025 | সময়: 3:28 am | সুমন শেখ