, , ।
বাংলাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পেনশন ও অবসর-পরবর্তী সুযোগ-সুবিধা বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে হতাশাজনক বাস্তবতাগুলোর একটি হলো, তারা অবসর গ্রহণের পর পেনশন, চিকিৎসা সেবা বা উৎসব ভাতার মতো কোনো ধরনের অবসর-পরবর্তী সুবিধা পান না। অথচ তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন, যারা পরবর্তীকালে দেশের উৎপাদনশীল মানবসম্পদে পরিণত হয়।
দুঃখজনকভাবে, অবসরের সঙ্গে সঙ্গেই তাদের মাসিক আয় বন্ধ হয়ে যায়, ফলে তারা বার্ধক্যের জটিল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। আর্থিক সহায়তা ছাড়া একজন প্রবীণ শিক্ষক কীভাবে বার্ধক্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন? কারণ অর্থ মানুষের জীবনের জন্য একপ্রকার জ্বালানির মতো, যা ছাড়া টিকে থাকা সম্ভব নয়। সেই জ্বালানি যদি হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কীভাবে বেঁচে থাকবেন?
ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার পদ্ধতি চালু হওয়ায় বিশেষ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন, উৎসব ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু স্বচ্ছতা ও গতি এসেছে। একইসঙ্গে প্রধান শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সভাপতিদের কাছ থেকে হয়রানির মাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা ঊঋঞ চালুর আগে ছিল অত্যন্ত সাধারণ।
অতএব, আমি দেশের সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি দয়া করে একটি কমিশন গঠন করে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দুর্দশা তদন্ত করুন এবং তাদের উপযুক্ত অবসর-পরবর্তী সহায়তা যেমন পেনশন ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করুন।
একইসঙ্গে, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে অযথা উচ্চ মূল্যায়ন করা হয়—এ বিষয়টিও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি। এমন অনুশীলন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ধ্বংস করছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপদে ফেলছে। এতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের গোপন চক্রান্তও থাকতে পারে, যা জাতির জন্য অশনি সংকেত।
এই প্রেক্ষাপটে আমি আন্তরিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই অনুগ্রহ করে অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য পেনশন ও বার্ধক্যকালীন ভাতা চালু করে তাদের জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করুন। এটি শুধু একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব।
লেখক: মোঃ হাবিবুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, মাদার বখ্শ্ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, রাজশাহী