বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, শিবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে একটি চায়ের দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দুদফা হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরে বিষয়টি বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কে এক ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।পরে বিএনপির এক নেতা ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শনিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার ছত্রাজিতপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৩ জন আহত এবং ৩টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। এ সময় উভয় পাশে আটকে যায় পণ্যবোঝাই ট্রাকসহ শতাধিক যানবাহন।
স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় ছত্রাজিতপুর ফুলতলা বাজারে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিন্টু রহমানের ভাতিজা রাসেলের চায়ের দোকানের সামনে রানীহাটি এলাকার আসলাম ও সাহেব আলীসহ ৫-৭ ব্যক্তি ৩টি মোটরসাইকেল রাখে। রাসেল প্রথমে তাদের দোকানের সামনে থেকে মোটরসাইকেলগুলো সরানোর অনুরোধ করার একপর্যায়ে এ নিয়ে রাসেলের সাথে তাদের কথা কাটাকাটা হয়।
এ সময় মোটরসাইকেল আরোহীদের একজন বোমা মেরে সত্রাজিতপুর বাজার উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিলে আশেরপাশের স্থানীয়রা তাদের ঘিরে ফেলে এবং মারধর করে।ধাস্তাধস্তির একপর্যায়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। কিছুক্ষণ পর রাত সোয়া ৮ টার দিকে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে তারা ঐ এলাকায় ৪ টি ককটেল ছুড়লে তিনটি ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। ভাঙচুর করা হয় তিনটি মোটরসাইকেল। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। অতকিত হামলা চালানো হয় মিন্টুর বাড়িতে। এ সময় স্থানীয় সাংবাদিক জুয়েল কে বেরধর পিটিয়ে আহত করা হয়।
এদিকে গোরস্থান মসজিদের মাইকে সন্ত্রাসীরা বাজার লুটপাটে এসেছে এবং তাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়ার পরপরই মিন্টুর সমর্থকরা ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের অবরোধ করে বিক্ষুদ্ধরা। ফলে উভয় পাশে আটকে যায় শতাধিক পণ্যবোঝাই ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। খবর পেয়ে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আশরাফুল হক ও শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হবার পর যান চলাচল শুরু হয়। এ ঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছে।
ছত্রাজিতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিন্টু রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আশরাফুল হকের অনুসারী রানীহাটি এলাকার আসলাম ও সাহেব আলী এ ঘটনার জন্য দায়ী। এ নিয়ে সত্রাজিতপুর বাজারে সালিশ বৈঠকের জন্য আহবায়ক কে বলা হয়েছে।তিনি এ শর্ত মেনে সালিসে না বসলে এ নিয়ে মানববন্ধন ও আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আশরাফুল হকের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি স্বীকার করে শিবগঞ্জ থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া বলেন, মোটরসাইকেল পার্কিং নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কাউকে আটক করা যায়নি। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।