সর্বশেষ সংবাদ :

ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার, গোদাগাড়ী: সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান, মরহুম ব্যারিস্টার আমিনুলহকের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরাস্থানে বাবা-মায়ের পাশে আমিনুল হককে দাফন করা হয়।
মরহুম এই নেতার মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ১০টায় কোরআন খতম, মরহুমের কবর জিয়ারত ও বিকাল ৪ টায় উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে আলোচনা সভায় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে প্রধান অতিথি থাকবেন রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম ও সাবেক সামরিক সচিব ও বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবঃ) শরিফ উদ্দিন আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মরহুম ব্যারিস্টার আমিনুল হক রাজশাহী গোদাগাড়ী পৌরসভার কেল্লাবারুইপাড়া গ্রামে ১৯৪৪ সালের ১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম ফাহিম উদ্দিন বিশ্বাস, মা মরহুম আনোয়ারা খাতুন। আট ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার ভাই-বোন সবাই দেশ–বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত। সেজন্যে সত্তর দশকের শেষদিকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মরহুম আনোয়ারা খাতুনকে রত্নগর্ভা উপাধিতে ভূষিত করেন।
শিশু আমিনুল হকের বেড়ে ওঠা তার জন্মস্থান রাজশাহীতে। গোদাগাড়ী হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে রাজশাহী কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেন। এরপর শিক্ষাজীবনে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে আইন বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
তার কর্মজীবন শুরু হয় শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে। ১৯৬৪ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজে অধ্যাপনা করেন।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময় আমিনুল হক তখন প্রাইমারী স্কুলের ছাত্র। মিছিলে অংশ নিতে স্কুল থেকে বেড়িয়ে পড়েন। মিছিল ছত্রভঙ্গ করবার জন্য পুলিশ ধর-পাকড় করলে তিনিও আটক হন।
ষাটের দশক থেকেই তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সাথে যুক্ত ছিলেন। সেই থেকেই রাজনীতিতে তার পদচারণা। ১৯৭০ সালে তিনি লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়তে যান। মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডনে অনশন আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৭৬ সালে পড়াশোনা শেষে তিনি দেশে ফিরে এসে হক এন্ড হক কো: প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৭ সালে সে-সময়কার নব উদীয়মান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান করেন।
স্বাধীনতার পর প্রথম বিএনপি’র কোন প্রার্থী ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমিনুল হক রাজশাহী-১ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পঞ্চম সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো বিএনপি সরকারের আইন-বিচার এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এবং পরবর্তী সময়ে সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রীর দ্বায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ, ১৯৯৬ সালের সপ্তম এবং ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনকালে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। সেইসাথে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন।
পারিবারিক জীবনে আমিনুল হক এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ছেলে এহতাসামুল হক আমেরিকায় আইন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত এবং মেয়ে শবনাজ হক ঢাকায় আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। সহধর্মিণী আভা হক-কে নিয়ে ঢাকার ধানমণ্ডি এলাকায় বসবাস করতেন তিনি।
আমিনুল হক সস্ত্রীক কোয়ান্টাম মেথড কোর্স সম্পন্ন করেন ৩৪৩ ব্যাচে। পরবর্তীতে তারা উভয়েই কোয়ান্টাম মেথড রিয়েলাইজেশন প্রোগ্রামের ১৮ তম ব্যাচে অংশ নেন। তার মেয়েও কোয়ান্টাম পরিবারের একজন গ্র্যাজুয়েট সদস্য।
ব্যারিস্টার আমিনুল হক ছিলেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকা ছিল অবহেলিত এক জনপদ। গোদাগাড়ীতে উন্নয়নের ছোঁয়া আনতে তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল অসামান্য।
২০০টির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, উন্নত সড়ক, সেচ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ প্রকল্প, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিক্ষক ও কর্মী নিযুক্তকরণের মধ্য দিয়ে তিনি জনসাধারনের জন্যে তার মমতার প্রকাশ করে গেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হলে দেশ অগ্রগতির পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।


প্রকাশিত: April 21, 2025 | সময়: 3:17 am | সুমন শেখ