সর্বশেষ সংবাদ :

চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ মানুষ। চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম, রাস্তা নির্মাণে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে শত শত এলাকাবাসী আজ রবিবার (২২ জুন) সকাল ১০টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের সমনে তার বিচার ও গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি একাধিকবার ত্রাণের চাল আত্মসাৎ করেছেন, সরকারি প্রকল্পের অর্থ লোপাট করেছেন এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে নিয়মিত অনিয়ম করে এসেছেন। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর ধরে তিনি বাসুদেবপুর ইউনিয়নে একপ্রকার ‘স্বৈরাচারী শাসন’ কায়েম করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তি জানান, নজরুল ইসলাম দলের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন প্রশাসনের নজর এড়িয়ে তিনি দাপটের সঙ্গে দুর্নীতি করে গেছেন। রাস্তা নির্মাণ থেকে শুরু করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, এমনকি হাট-বাজার ইজারার টাকাও স্বচ্ছভাবে ব্যয় হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
বাসুদেবপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, এ ইউনিয়নে ত্রাণের চাল সঠিকভাবে বিতরণ হয় না। যে চাল গরিব মানুষের প্রাপ্য, তা রাজনৈতিকভাবে ভাগ করে খেয়েছেন নজরুল ও তার লোকজন। একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার নজরুল ইসলামওে বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এলাকাবসী চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। পর উত্তেজিত জনতা সামনে দুর্নীতির দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম।
ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “বিক্ষোভের চাপে নজরুল ইসলাম বুধবার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।”অভিযোগ সম্পর্কে মো. নজরুল ইসলামের সাথে ০১৭২৪১৩৩৬১৭ মোবাইল নম্বরে ফোন করলে তিনি ফোন ধরেননি। তাই তার বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে এলাকাবাসী বলেন, এটি দীর্ঘদিনের ক্ষোভের ফল, কোনো তাৎক্ষণিক ঘটনা নয়। ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়েছে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা প্রশাসনের নিষক্রিয়তার সমালোচনা করেন। তারা বলেন, বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই নিরবতা দুর্নীতিকে উৎসাহিত করেছে।
এলাকাবাসী জানান, শুধু পদত্যাগ নয়, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পূর্ণ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এবার মানুষ আর চুপ থাকবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়েছে। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে যাবে জনগণ।


প্রকাশিত: June 23, 2025 | সময়: 4:20 am | সুমন শেখ

আরও খবর