তাপপ্রবাহে ঝরছে আমের গুটি

স্টাফ রিপোর্টার: চলতি মৌসুমে গাছে মুকুলও এসেছিল বেশ। এতে চাষিদের মনে আশা জেগেছিল বেশ। কিন্তু যতো দিন যাচ্ছে সেই আশায় গুড়েবালি। মুকুল থেকে আম ফোটার সময় কিছু ঝরেছে। আবার এখন তাপপ্রবাহের কারণে আমের গুটি ঝড়ে পড়ছে প্রচুর পরিমানে। এতে রাজশাহী অঞ্চলে আমের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে যেটুকু আম গাছে আছে তা টেকাতে বাড়তি খরচ ও শ্রম দিতে হচ্ছে চাষিদের।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নওগাঁয় ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির বাগানে ৪ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে ৩ লাখ ৮৬ হাজার মেট্রিক টন ও রাজশাহীতে ১৯ হাজার ৬০০ হেক্টর বাগানে দুই লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এই তিন জেলায় আম বাগানে প্রায় ৯৩ হাজার হেক্টর জমি জুড়ে গুটি আছে। তবে চলমান তাপদাহ যে বাগড়া দিচ্ছে।
রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর বাগানে মুকুল এসেছিল বেশ। কোন কোন গাছে গুটিও এসেছে। তবে, খরার কারণে বাগানের গুটি আম শুকিয়ে ঝরে যাচ্ছে। খরাতে যেন আমের গুটি ঝরে না পড়ে। সেজন্য বাগানে নিয়মিত সেচ দেওয়ার পাশাপাশি কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শও দিয়ে যাচ্ছে কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা।
রাজশাহী অঞ্চলে এ তাপপ্রবাহ দীর্ঘ হতে পারে। সে কারণে অনুকুল পরিবেশ না পেলে চলতি বছর আমের অনইয়ার হলেও ফলতে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। কারণ আম উৎপাদনের ক্ষেত্রে অনুকুল আবহাওয়া হওয়াটা জরুরি।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু তাপপ্রবাহ বলে। একইভাবে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রিকে মাঝারি ও ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রিকে তীব্র তাপদাহ এবং ৪২ এর উপরে গেলে সেটাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলে। রাজশাহী অঞ্চলের জন্য তাপমাত্রা যদি ৩৫ ডিগ্রি পর্যন্ত থাকে তাহলে স্বাভাবিক ধরা হয়। কিন্তু ইতোমধ্যে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে। সে হিসেবে এ অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ।
২৮ মার্চ রাজশাহীতে ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। গত ১ এপ্রিল রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হবে। সেক্ষেত্রে গড় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি অতিক্রম করতে পারে। এতে প্রকৃতি ও জনজীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে।
নওগাঁর পোরশা উপজেলার শুড়িপুকুর গ্রামের আমচাষি মানিক কুমার। তিনি জানান, আর বাগানে যে পরিমাণে মুকুল এসেছিল সে পরিমানে গুটি হয়নি। খরার কারণে কিছু গুটি ঝরে পড়েছে। ফলন যে পরিমান আশা করেছিল সেভাবে হয় তো হবে না।
মানিক কুমার আরো জানান, খরার কারণে বাগানের গাছে পানি, কীটনাশক স্প্রে করা থেকে শুরু করে সেচও পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। তবু যে তেমন ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
রাজশাহীর বাঘার আমচাষি জসিম উদ্দিন বলেন, তার ৫ বিঘার আমবাগান রয়েছে। আমের মুকুল বেশ এসেছিল। তবে কয়েকদিনের খরায় গুটি ঝরে পড়তে শুরু করেছে। অনেকভাবেই চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু চোখে পড়ার মতো আমের গুটি ঝরে পড়ছে।
রাজশাহী ফল গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, আমের গুটি ঝরে পড়া বন্ধ ও ক্ষতিকর পোকা দমনে বাগানে সেচের পাশাপাশি কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভালো ফলনের আশায় সংশ্লিষ্টরা বাগান পরিচর্যা করে যাচ্ছেন।
তবে, রাজশাহী কৃষি বিভাগের উপপরিচালক উম্মে সালমা বলেন, গাছে এখনো যে পরিমাণ গুটি রয়েছে, বড় দুর্যোগ না হলে আমের ফলন ভালোই হবে। এতে আমচাষি ও সংশ্লিষ্টরা লাভবান হবেন।


প্রকাশিত: এপ্রিল ৯, ২০২৫ | সময়: ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর