বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: নির্বাচনী বিরোধ ও খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের তরিকুল ইসলাম শেখ (২৬) নামের এক কর্মীকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় হামলাকারী আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীর অন্তত ৩৫টি ঘর-বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে ভষষ্মীভূত করার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থানার ওসি সহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু সশস্ত্র লোকজনের বাধার মুখে নিরাপত্তা জনিত কারণে আগুন না নিভিয়েই ওসি সহ ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করেন।
পরে পাবনা র্যাব-১২ এর সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরে আগুন নিয়ন্ত্রণসহ পরিস্থিতি শান্ত করেন। বুধবার দুপুর থেকে রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত পাবনা ঈশ্বরদীর বহুল আলোচিত ৬ হত্যাকান্ডের এলাকা এলাকা (সিক্স মার্ডার খ্যাত) লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের কামালপুর ও সাহাপুরের চরগড়গড়ি আলহাজ্বমোড় এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। আহত তরিকুল ইসলাম ওই এলাকার রিকাত আলী শেখের ছেলে।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে যাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে ভুস্মিভুত করা হয়েছে তারা হলেন লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের নসিরের ঘাট এলাকার মৃত নুর আলী প্রামানিকের চার ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুল ইসলাম মেম্বার, আকুব্বার, মোমিন, আলামিন, মৃত আলিমুদ্দি মীরের ছেলে শফি ঘোষ, মৃত লাল চাঁদের ছেলে চাঁদ আলী, জহুরুল ইসলামের ছেলে আশিক, মৃত মুজাম সরদারের দুই ছেলে আজিম সরদার, নাজিম সরদার।
ঈশ্বরদী শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দুরের দুর্গম এলাকা লক্ষ্মীকুন্ডার চরমাদিরার চর, ডিগ্রীর চর ও তালবাড়ি চরের কয়েক হাজার একর সরকারী খাস জমির দখল নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছে।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, ঘটনার সময় বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবকদলের কর্মী তরিকুল ইসলাম ইসলাম শেখ তালবাড়ির চরে যান। সে সময় আওয়ামী লীগের লোকজন তার পায়ে কুপিয়ে মারাত্বক জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত তরিকুল তার উপর হামলাকারীদের নাম প্রকাশ করে। এরপরই তরিকুলের স্বজনরা ও দলীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে আওয়ামী লীগের ওই সকল নেতাকর্মীদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেন।
আহত তরিকুল ইসলামের বরাত দিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইদুল ইসলাম প্রামানিক জানান, চরের জমি দেখতে গেলে আওয়ামী লীগ নেতা তরিকুল ইসলাম মেম্বারের হুকুমে তার পক্ষের লোকজন আসাদুল মেম্বার, আলামিন, আকুব্বার, শফি, আশিক, নাজিম সহ অন্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তরিকুলের পায়ের রগ ও হাটু কেটে ফেলে। বর্তমানে তরিকুল ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান সাইদুল ইসলাম।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের এই গ্রুপটি আওয়ামী লীগের সময়ে এলাকা থেকে অনেক মানুষকে বিতাড়িত করেছে। বাড়ি ঘরে হামলা ভাংচুর, লুটপাট করেছে। বাড়িতে আগুন ধরিয়ে ভস্মিভুত করেছিল। ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনার পতনের পর এই গ্রুপের কিছু লোকজন আত্মগোপনে থেকে মাঝেমধ্যেই বিএনপির লোকজনের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করছে।
আওয়ামী লীগ নেতা তরিকুল ইসলাম মেম্বার ও ওমর ফারুখ বিএনপি নেতা সাইদুল সহ অন্যদের অভিযোগ অস্বীকার বলেন, ৫ আগষ্টের পর থেকে আমরা নিজ বাড়িতে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছি। নিজেদের নামীয় ও সরকার থেকে লীজ নেওয়া চরের জমি ছেড়ে এসেছি। এই জমি এখন বিএনপি নেতা সাইদুল ইসলাম প্রামানিক ও কুষ্টিয়ার হরিশপুরের জৈনক মুকুল গ্রুপ দখল করে নিয়েছে।
এই নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জের ধরে মুকুল গ্রুপই স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা তরিকুল ইসলামকে কুপিয়ে জখম করেছে। আর সেই দায় আমাদের উপর দিয়ে আমাদের অন্তত ৩৫ বাড়িতে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছে। এখন শীতের দিনে আমরা পরিবার পরিজনদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে লক্ষ্মীকুন্ডার দূর্গম ওই এলাকায় ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ফিরে আসতে হয়। ওসি আরও বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেনা ও র্যাব সদস্যরা এলাকায় টহলে রয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এই ব্যাপারে থানায় লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।