বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা:
একদল তরুণ শহর থেকে খেজুর রস খেতে এসেছেন বাঘায়। তাদের বাড়ি রাজশাহী শহরে। রস খেতে-খেতে রীতিমতো আনন্দে উৎফুল্ল। কারণ শহরে খাঁটি রস পাওয়া দুরূহ। বিক্রেতারা রসের মধ্যে পানি-চিনি মিশিয়ে পরিমাণ ও কৃত্রিম স্বাদ বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তাই শতভাগ প্রাকৃতিক ও নির্যাস পূর্ণ রস খেতে তাদের গ্রামে আগমন।
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সূর্য ওঠার পর মুহুর্তে খেজুর রস প্রেমীরা ভীড় জমিয়েছেন জেলার বাঘা উপজেলার আমোদপুর গ্রামে তাদের এক আত্নীয়র বাড়িতে। আগের দিন মোবাইলে কথা বলে রস খেতে এসছেন তারা। খাঁটি রস খাওয়ার আনন্দ উপভোগ করছেন মুড়ি দিয়ে। তাদের ভাষ্য মতে, এ রসের মজাই আলাদা। এরপর নিজেরা খেয়ে বাড়িতেও নিয়ে গেছেন। এ যেন অন্য রকম এক অনুভতি।
রস খেতে আসা রাসেল জানান, শহরে এক গ্লাস রসের দাম ১০ টাকা। লিটার হিসাবে ৫০ টাকা। তাও আবার স্বাদ নেই। তার মতে, শীত যত বাড়বে খেজুর রসের স্বাদও তত বাড়বে। কিন্তু শহরে নিখুত গুড় পাওয়া বড় দায়। তাই বাঘা থেকে পিঠা খাওয়ার জন্য সুস্বাদু গুড় প্রতি কেজি গুঁড় ২০০ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে গেছেন।
বাঘার লোকজন জানান, সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ার কারণে এখানে শীতের তীব্রতা বেশি। এ অঞ্চলে যারা খেজুর গাছ লাগান আঞ্চলিক ভাষায় তাদের গ্যাছি বলা হয়ে থাকে। এখানকার খেজুর রস আহরণকারীরা প্রাকৃতিক উপায়ে রস সংগ্রহ ও খাঁটি খেজুর গুঁড় তৈরী করে থাকেন। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রয়েছেন যারা খেজুর গুড়ের সাথে দানা বৃদ্ধি করার জন্যে চিনি, ফিটকারী, রঙ এবং হাইডোজ এক ধরনের কেমিক্যাল মিশিয়ে থাকেন। বর্তমানে এখানকার খেজুর রসের তৈরি পাটালি গুঁড়, বাটি গুঁড় ও নালী গুঁড় স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্রয় হচ্ছে।
বাঘা উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় খেজুর গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। অত্র উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা মিলে প্রতি বছর বাঘার মানুষ একমাত্র খেজুর গাছ থেকে প্রতি মৌসুমে প্রায় ৭-৮ কোটি টাকা আয় করে থাকেন। তাঁর মতে, যদি কৃষকরা নিজ নিজ পতিত জমিতে খেজুর গাছ রোপন করেন, তাহলে এখানকার গুড় দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করে সম্ভব।
সার্বিক বিষয়ে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আসাদুজ্জামান (আসাদ) বলেন, কেমিক্যাল মুক্ত খেজুর রস মানব দেহের জন্য প্রাকৃতিক শক্তির দারুণ উৎস। শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর জন্য খেজুর রস ও ভ্যাজাল মুক্ত গুঁড় বেশ উপকারী।