সর্বশেষ সংবাদ :

রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে দলিল জট: বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও মিলছে না মূল দলিল

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, জমি রেজিস্ট্রেশনের দুই বছরের মধ্যে দলিল হাতে পাবেন মালিকরা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দলিল না নিলে গুনতে হবে জরিমানা। অন্যথায় বিনা কৈফিয়তে দলিল বিনষ্ট করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। রাজশাহী সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় দুই বছরতো দুরের কথা সাত বছরের পাওয়া যাচ্ছে না জমির মুল দলিল। বালাম বই সংকটের কারণে রাজশাহীতে এ জট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিস।
রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তেঘর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান সরকার অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালে কিছু জমি মেয়েকে দান রেজিস্ট্রি করেছিলেন। প্রায় ৯ বছর হতে চললেও তার দলিল হাতে পাননি তিনি। জানা গেছে, তার মেয়ে অসুখের চিকিৎসার জন্য জমিটি বিক্রির প্রয়োজন। তারা অশিক্ষত ও সরল সোজা মানুষ বলে দলিল লেখকের কাছেই রশিদ রেখে যায়।
মুল দলিল না পাওয়ায় তার জমি বিক্রি হচ্ছে না। এতে বিপাকে পড়েছেন। দলিল লেখককে মুল দলিলের কথা বললে আজ নয় কাল। জানুয়ারী নয় জুনে আসেন-এমনভাবে ঘুরাচ্ছেন। কয়েকদিন আগে দলিল লেখকের সাথে ওই দলিল লেখকের কথা কাটাকাটি ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
আবার নওহাটা বসবাসকারি তেঘর গ্রামের মাহবুবুর রহমান ২০১৬ সালে তার চাচা আব্দুল হান্নান দিং এর কাছে থেকে ৩০ শতাংশ জমি কিনেন। তিনিও মুল দলিল হাতে পাননি। এ ব্যাপারে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘কয়েক বছর আগে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার জন্য জমি খারিজের জন্য সংশ্লিষ্ট দলিল লেখককে বলি। তখন তিনি তার নথিপত্র খুঁজে বলেন জমির মুল দলিল এখনো আসেনি। আজ পর্যন্ত ওই ক্রয়কৃত জমির মুল দলিল পাওয়া যায়নি’। ক্রেতারা জমির মুল দলিল পেতে এভাবেই ঘুরছে বছরের পর বছর। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুল দলিলই দেয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে দলিল লেখকদের হাত নেই। বরং এ বিষয় নিয়ে তাদেরকেই ক্রেতার সাথে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দলিল লেখক বলেন, প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে পবা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ছয় মাস থেকে দুই বছরের মধ্যে মূল দলিল ডেলিভারি দেওয়া হতো কিন্তু বর্তমানে মূল দলিল ডেলিভারি পেতে নয় থেকে দশ বছর সময় লাগছে মূলত কর্মচারী কম থাকায় এর মূল কারণ।
রাজশাহী জেলা সাব রেজিস্টার আব্দুর রাকিব সিদ্দিকী জানান, রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে বালাম বই দেন বিজি অফিস। দুই বছর থেকে রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে বালাম বই সাপ্লাই ছিল না। যার কারণে এ জটের তৈরি হয়েছে। মাস ২ আগে আমরা বালাম বই হাতে পেয়েছি। জেলা অফিস থেকে বালাম বইগুলো উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই যে মন্থর অবস্থা ছিল তা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজশাহী সদর, ভবানীগঞ্জের মতো রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে বেশি দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে। সে হিসেবে ওই অফিসগুলোতে জট বেশি। অন্য অফিসগুলোতেও জট আছে। তবে সেগুলো কাটিয়ে উঠা যাবে তাড়াতাড়ি।


প্রকাশিত: October 25, 2024 | সময়: 5:08 am | সুমন শেখ