বাঘায় ত্রাণ সংকটে বানভাসি মানুষ

নুরুজ্জামান, বাঘা: রাজশাহীর বাঘার পদ্মার চরাঞ্চলে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে বসত বাড়ি ও জমির ফসল। নেই আশানরুপ ত্রাণের ব্যবস্থা। দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে, নদীর পানিও ঠিত ততটায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে অনেকেই খেয়ে না খেয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে পানির উপরে বাঁশের তৈরী মাচায় বসবাস করছে। আর গরু ছাগল গুলো দাড়িয়ে আছে নৌকা অথবা কলাগাছের উপর বিছানো খড়ের উপর।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, এতো কিছুর পরেও এখানে আগমন ঘটেনি জেলা প্রশাসকের। ইতোমধ্যে সরকারী ভাবে দশ কেজি করে একশ’ পরিবারকে চাল দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তরিকুল ইসলাম। তবে দেখা মেলেনি কোন এজিও কর্মকর্তা ও আ’লীগ নেতাদের। শনিবার জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সাইদ চাঁদ তাঁর লোকজন সাথে করে প্রায় দু’শত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছেন বলে জানান চরাঞ্চলবাসী।
চরাঞ্চলের লোকজন জানান, গত প্রায় একমাস হতে চল্লো বাঘার পদ্মায় পানি বাড়ার কারণে প্রথমে ভাঙ্গন দেখা দেয়। এই ভাঙ্গনে প্রায় হাজার-হাজার বিঘা জমির আবাদি ফসল নষ্ট হয়। আর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে পদ্মা তীরবর্তী লক্ষ্মীনগর, আতার পাড়া ও চৌমাদিয়া সহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় শত-শদ বিঘা জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে যায়। এর মধ্যে অন্যতম কলা বাগান। চরাঞ্চলের শিক্ষাক মিজানুর রহমান জানান, তাঁর অতি যন্তে বড় হওয়া ৮৫ বিঘা কলা বাগান এখন পানির চিচে তলিয়ে আছে।
চরাঞ্চলের একজন শিক্ষক ও একজন ইউপি সদস্য জানান, বর্তমানে চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত চকরাজাপুর ইউনিয়নের চারটি ওয়াডের প্রায় এক হাজার মানুষ পানি বন্ধী হয়ে পড়েছেন। এদের অনেকেই অনাহারে-অর্দাহারে পানির উপর বাঁশের মাচা করে তার উপর দিন কাটাচ্ছে। আবার অনেকেই বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে ছুটছে নিরাপদ আশ্রয়ে। এদের কেউ-কেউ গরু-ছাগল দাড় করে রেখেছে ভাসমান নৌকা অথবা কলাগাছ দিয়ে তৈরী বোট এর উপড় খড় বিছিয়ে।
বন্যা কবলিত এলাকার লোকজনের অভিযোগ, এই মুহুর্তে স্থানীয় এমপি থাকলে হয়তো তাদের বাস্তব অবস্থা পরিদর্শন করে আর্থিক সহায়তা দিতেন? কিন্তু দেশের বর্তমান প্রেক্ষা পটে এখন পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কিংবা পানিউন্নয়ন বোর্ডের কোন কর্মকর্তা তাদের দেখতে আসেননি। একদিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসে দেখে যাবার পরদিন মাত্র একশ পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে চাল পাঠিয়েছেন। যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে অপ্রতুল।
এদিক থেকে শনিবার সকালে দলীয় লোজনসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে-গ্রামে গিয়ে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের মাঝে দশ কেজি করে চাল, পাঁচ কেজি আটা এবং ডাল-সহ সুখনা খাবার পৌঁছে দিয়েছেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং সাবেক চারঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু সাইদ চাঁদ। এ সময় প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে খুশিতে আত্নহারা হয়েছেন চরাঞ্চলবাসী। চরাঞ্চলের বিএনপি নেতা-মোল্লা খামারু ও জগলু শিখদার-সহ আরো অনেকে তাদের প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে আবেগ-আপ্লুত হয়ে দলীয় স্লোগান দিয়েছেন।
চরাঞ্চলে গিয়ে আবুসাইদ চাঁদ বলেন, ভাগ্যের উপরে কিছু নেই। আমি দলের জন্য একজন নিবেদিত কর্মী। সংগঠনকে টিকিয়ে রাখতে নিবিড় পরিশ্রম করি । এ জন্য আমাকে মাঝে-মধ্যে কারাগারে যেতে হয়। সম্প্রতি ১৩ মাস হাজত খেটে বেরিয়েছি। আমি আপনাদের পাশে আছি এবং থাকবো। স্বৈরাচারী সরকার দেশ থেকে পালিয়েছে। সামনে আমাদের জয় সু-নিশ্চিত।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তরিকুল ইসলাম জানান, আমি সম্প্রতি পদ্মার চরাঞ্চলে ভাঙ্গন দেখতে গিয়ে ছিলাম। পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেতে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন।
এ ছাড়াও বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে অনেকেই অন্য এলাকায় চলে গেছেন। এর ফলে তারা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। আমি ইতোমধ্যে শতাধিক পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী পৌছানো-সহ তাদের জন্য খাবার ও আর্থিক সহায়তা চেয়ে একটি প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক-সহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করেছি।


প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২৪ | সময়: ৬:২৯ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ