, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: আউশ মৌসুমে আগাম আমন ব্রি ধান-৯৮ ও ব্রি ধান-৭৫ চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন রাজশাহীর কৃষকরা। সাধারণত অন্যান্য জাতের ধান চাষ করে যেখানে প্রতিবিঘা (৩০ শতক) ১২ থেকে ১৮ মণ ধান পেত সেখানে এবার উপজেলা কৃষি দপ্তরের পরামর্শে ব্রি-৯৮ জাতের ধান চাষ করে প্রতিবিঘায় ২০ থেকে ২২ মণ ফলন পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, জেলায় এবারে আঊসের আবাদ হয়েছে ৪৭ হাজার ৭৫৫ হেক্টর (প্রায় সাড়ে তিন লাখ বিঘা) জমিতে। এছাড়াও আগামসহ আমনের আবাদ হয়েছে ৮৪ হাজার ৫০১ হেক্টর (প্রায় সোয়া ছয় লাখ বিঘা) জমিতে। তবে কৃষকরা আঊস ও আগাম আমন ধান চাষকে আলাদা করে দেখছেন না। কৃষকরা আঊস ও আমনকে বলছেন আমন ধান।
সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকের দিগন্ত ভরা মাঠে মাঠে ছড়িয়ে পড়েছে আগাম ধানের স্বর্ণালী হাসি। কেহ ধান কাটছেন, কেহ কেহ ধান মাড়ছেন। আবার অনেকে রৌদ্রে শুকিয়ে বাজারজাত করণে জন্য প্রক্রিয়া করছেন। অগ্রহায়ণ নয়, নিষ্ফলা আশ্বিনে মঙ্গাজয়ী আগাম জাতের নতুন ধানের বাম্পার ফলন ও ভালো বাজার মূল্যে পেয়ে হাজারো কৃষক পরিবারে এনেছে সমৃদ্ধির হাসি।
জেলার মোহনপুর উপজেলার প্রতিটি গ্রামে আগাম নবান্নের উৎসবে মাতোয়ারা। উপজেলার সর্বত্র আঊস ও আগাম আমন ধানকাটা-মাড়াইয়ের ধুম পড়েছে। ধান কাটার পর আগাম আলুসহ শীতকালীন রবিশস্য চাষে চলছে ব্যাপক প্রস্ততি। এজন্য মাঠে-মাঠে কৃষান-কৃষানিরা ক্ষেতমজুরের ব্যস্ততা যেন দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের।
জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, গত বারের তুলনায় কৃষক তাদের উঁচু সমতল এক ইঞ্চি জমি পতিত রাখেনি। এসব জমিতে ভুট্টা ও আগাম আলুর মধ্যেবর্তী সময়ে বাড়তি ও লাভজনক আবাদ হিসেবে ব্রি-৯৮ জাতের নতুন ধান চাষ করেছেন। স্বল্পমেয়াদি আগাম জাতের এ ধান চাষে ফলন দ্বিগুণ হওয়ার পাশাপাশি চারা রোপণের শুরু থেকে অনুকূল আবহাওয়া, যথাসময়ে ভারী থেকে হালকা বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফলনে ছাড়িয়েছে লক্ষ্যমাত্রা।
কৃষি প্রণোদনার উচ্চ ফলনশীল, কম সময়ে উৎপাদিত খরা সহিষ্ণু ব্রি-৭১,৭৫, ৮৭, ৯৪, ৯৮সহ হাইব্রিড, চায়না জাতের ধানের ভালো ফলন পেয়ে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। বাজারে ধানের দামে ক্ষুদ্র-প্রান্তিক কৃষক বাড়তি আয়ের মুখ দেখছেন। এ বাড়তি আয়ে আলুসহ অন্যান্য রবি ফসল চাষে খরচ মেটাবে চাষি। দুঃসময়ে কৃষকের ঘরে ধান উঠায় ধান ও চালের বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হবে। এতে কৃষক, খেতমজুর, গবাদিপশু পালনকারী, ধান, চাল ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
মোহনপুর উপজেলার পোল্লাকুড়ি গ্রামের চাষি মো. আব্দুল জব্বার জানান, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে এ বছর চার বিঘা জমিতে চায়না জাতের ব্রি ধান ৯৮ চাষ করেছি। বিঘায় ফলন হচ্ছে ২০/২৫ মণ। প্রতিমণ কাঁচা ধান বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৩২০ টাকা দরে।
পত্রপুর গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, এক সময় আগাম আলু চাষের জন্য জমি ফেলে রাখা হত। এখন স্বল্প জীবনকাল জাতের চায়না ও হাইব্রিড ধান আসায় জমি ফেলে রাখা হয় না। ভুট্টা ও ধানের পর আগাম আলু চাষ করলে আলুর ফলন ভাল হয়, দামও পাওয়া যায় চড়া। অপরদিকে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ জমিগুলোতে বছরে আগাম-নাভি আলু, ভুট্টা, ধানসহ চার ফসল উৎপাদন হচ্ছে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোসা: উম্মে সালমা জানান, রাজশাহী জেলায় প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টর (প্রায় সাড়ে তিন লাখ বিঘা) জমিতে চলতি মৌসুমে আগাম জাতের এই ধান চাষ করা হয়েছে। তাই এবার কৃষকদের ব্রি ধান-৯৮ চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এই ধানে সেচ ও সার কম লাগে। ধানের আকার চিকন এবং লম্বা। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষক বেশি লাভ করতে পারবে। আগামীতে কৃষকরা ব্রি-৯৮ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।