বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় এলাকায় ভয়াবহ বিদ্যুতের লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়তই লোড শেডিংয়ে অতিরিক্ত খরা আর গরমে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন এলাকাবাসী।
গত কয়েক দিন ধরে এলাকায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। গ্রাম এলাকায় একবার গেলে টানা দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় বেকায়দায় পড়ছেন বয়স্ক ও শিশুরা। এদিকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল অন্তর্বতীকালীন সরকারকে প্রশ্ন বিদ্ধ করতে বিদ্যুৎ বিভাগে ঘাবটি মেরে থাকা কিছু অসৎ কর্মকর্তা কর্মচারীরা বিদ্যুতের কারচুপি করে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত প্রায় ১০ দিন যাবত নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -১ এর বাগমারা জোনাল অফিসের আওতায় দিনে রাতে ২৪ ঘন্টার অর্ধেক সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না। রাতের বেলা এই বিদুৎ বিপর্যয়ে দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। চলমান পরিস্থিতিতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অফিস-আদালত, কল-কারখানা, উপজেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, বিভিন্ন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সর্বসাধারণকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। এলাকা জুড়ে ভাদ্র মাসে এখন প্রচন্ড খরা ও তাপপ্রবাহ চলছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম আকার ধারণ করেছে।
বাগমারার পার্শ্ববর্তী এলাকার তুলনায় বাগমারায় বিদ্যুতের সংকট বেশী হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এলাকাভেদে চাহিদার তুলনায় ৫০ ভাগ বিদ্যুৎ কম মিলছে। বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সরবরাহ না বাড়লে সামনে ভোগান্তি আরও বাড়বে। তবে এলাকাবাসীর দাবি বৃহৎ উপজেলা চাহিদা বাড়াতে কর্তৃপক্ষের গড়িমসির কারণে এলাকার গ্রাহকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। উপজেলায় নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দাবি সারা দেশেই বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় কম দেয়া হচ্ছে। মেইন লাইন থেকে আমরা পরিমিত বিদ্যু পাচ্ছি না।
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ একটানা দীর্ঘ সময়ে মিলছে না বলে অভিযোগ করেন উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের লুৎফর রহমান, আসাদুজ্জামান, কাজেম আলী, সামাদ সহ অনেকে। একটানা বিদ্যুৎ না থাকায় দিনে ভোগান্তি রাতে ঘুম হচ্ছে না গরমে। দিনে রাতে কম করে ১২-১৩ বার বিদ্যুৎ আসে আর যায়। একদিকে খরা তার উপর বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের এমন দুর্ভোগ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্তি বিদ্যুৎ সরবাহের দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পল্লী বিদ্যুতে কিছু ঘাফটি মেরে থাকা লোক রয়েছে। এসব অসৎ লোক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সৃষ্টি করছে। তারা বর্তমান সরকারকে হেয় প্রতিপূর্ণ করতে এমন কাজে লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।
এ ব্যাপারে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বাগামারা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেলারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আমিনুর রাশেদ বলেন, চহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ অত্যন্ত কম। উপজেলায় ৪০ মেগাওয়ার্ড বিদ্যুৎ প্রয়োজন সেখানে মিলছে ২০ মেগাওয়ার্ড। রাতে গরমের কারণে চাহিদা অতিরিক্ত। ফলে, জাতীয় গ্রীডে চাহিদার কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোড শেডিং হচ্ছে। খরার পরিমান বাড়ায় বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদাও বেড়েছে। তবে বৃষ্টি নামলে সমস্যা দুর হবে বলে তিনি মত ব্যক্ত করেছেন। তা ছাড়া এলাকার চাহিদামত বিদ্যুত বরাদ্দের জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।