সর্বশেষ সংবাদ :

রহনপুর-সিঙ্গাবাদ রুট দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর দাবি পূনর্ব্যক্ত

গোমস্তাপুর প্রতিনিধি: ব্রিটিশ আমলে নির্মিত রহনপুর-সিঙ্গাবাদ রুট দিয়ে বাংলাদেশ -ভারত -নেপাল রুট দিয়ে মালবাহী ট্রেন চালু থাকলেও যাত্রীবাহী ট্রেন চালু নেই।
প্রায় ১০ বছর যাবত একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের দাবি জানিয়ে আসছে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার জনসাধারণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখনই ভারত সফরে যান তখনই এ দাবি বাস্তবায়নে আশান্বিত হয় এ তিন জেলার বাসিন্দারা। এবারও আশায় বুক বাঁধছে এ এলাকার জনসাধারণ। তাদের দাবি এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরের আলচ্য সূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হোক।
এছাড়া ভারতও বাংলাদেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে দুদেশ আগ্রহ রয়েছে। আগামী ২১ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে যাবেন। পরের দিন ২২ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের আশা, ওই বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিবেন দুইনেতা।
ইতিহাসবিদরা জানান, ১৯০৯ সালে এ রুট দিয়ে তৎকালীন পূর্ব বাংলার সাথে রেল যোগাযোগ চালু করে ব্রিটিশরা। একসময় ভারতের জাতির পিতা মহাআত্মা গান্ধীও এ পথ দিয়ে ঢাকা যাতয়াত করেছেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পরও চালু ছিল এরুটটি। তবে ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ২৫ বছর পর ১৯৯০ সালে এরুট দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত -নেপাল মালবাহী ট্রেন চলাচল চালু হয়। গত ১০ বছর যাবত এ রুট দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-নেপালের মধ্যে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁর জনপ্রতিনিধিরা।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমান জানান, এ বিষয়ে চলতি বছরের ২০ মার্চ একটি ডিও লেটার রেলমন্ত্রীর দেয়া হয়। রেলপথ মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে গত ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের জেনারেল ম্যানেজারকে এ বিষয়ে মতামত প্রদানের নির্দেশ দেন। যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে, গত ২৭ এপ্রিল একই দাবিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমানকে স্মারকলিপি প্রদান করে রহনপুর রেলবন্দর বাস্তবায়ন পরিষদ। পরিষদের আহবায়ক নাজমুল হুদা খান রুবেল জানান, আমরা দীর্ঘদিন যাবত রহনপুর -সিঙ্গাবাদ রুট দিয়ে বাংলাদেশ -ভারত -নেপাল যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীসহ বিভিন্নস্থানে দাবি জানিয়ে আসছি।
তিনি আরও জানান, আড়াই হাজার বছরের পুরনো বানিজ্য কেন্দ্র রহনপুর থেকে পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার সিঙ্গাবাদ স্টেশনের দূরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার। আর সেখান থেকে মালদহ শহরের দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। মালদহ থেকে সমগ্র ভারত ও নেপালের রেল যোগাযোগ চালু রয়েছে।
এছাড়া রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের সাথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদবাদ জেলার বাসিন্দাদের সাথে রয়েছে আত্মিক সম্পর্ক। এখন বৃহত্তর পরিসরে না হলেও এ রুট দিয়ে রাজশাহী- মালদহ একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের দাবি জানাচ্ছি।


প্রকাশিত: June 29, 2024 | সময়: 5:46 am | সুমন শেখ