, , ।
রাসেল সরকার, মোহনপুর:
রাজশাহীর পবা ও মোহনপুর এই দুই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আগামী ২৯ শে মে অনুষ্ঠিত হবে। সে উপলক্ষে তৃতীয় ধাপে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল ঘোষণার পর চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মাঠে নেমে পড়েছেন। শুরু করেছেন প্রচারণাও। এমন সময় প্রার্থীদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক)’কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। অন্তত ২ টি ফেসবুক পেইজে প্রার্থী ও ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে একের পর এক পোস্ট করা হচ্ছে। এমনকি খোদ সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারিকে নিয়েও ‘আওয়ামী লীগ মোহনপুর উপজেলা’ পেইজে গত ২০ এপ্রিল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। এবিষয়ে পবা থানায় জিডি করা হয়েছে। ফেসবুক ঘেটে এমন ২টি পেইজের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে পেইজের এডমিন সম্মন্ধে কোন খোঁজ মেলেনি।
গতকাল শনিবার (২৭ এপ্রিল) ‘আওয়ামী লীগ মোহনপুর উপজেলা’ নামের পেইজ ঘেটে জানা যায়, বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের চরিত্র হনন করা হয়েছে। পোস্ট দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী ও একাধিক নেতাকে। অন্তত ১৫/২০ জনকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর বিভিন্ন পোস্ট দেয়া রয়েছে। এই পেইজেই পোস্ট দেয়া হয়, বর্তমান সংসদ সদস্যের পরিবারের অনেককেই জড়িয়ে। ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হয় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদেরও। এমনকি এই পেইজেই ছড়ানো হয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এর বিরুদ্ধে নানান বিভ্রান্তিকর তথ্য।
আরেকটি ‘মোহনপুরের চোখ’ নামেই আইডি ঘেটে পাওয়া তথ্যমতে, স্থানীয় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ভাইটাল ছয় জন নেতাকর্মীর চরিত্র হনন করে পোস্ট দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী, ক্ষমতাসীন দলের জেলা ও উপজেলার শীর্ষ পদধারী নেতা। পোস্টে কোন কোন ক্ষেত্রে দেয়া তথ্য আংশিক সত্য হলেও অধিকাংশই মিথ্যা ও বানোয়াট। ভিত্তিহীন সেই পোস্টে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। পেইজের ওয়াল ফটোতে প্রধানমন্ত্রীর ছবি সাটানো। তবে পেইজটিতে একজন প্রার্থীর পক্ষে সাফাই গাইতেও দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করতে কে-বা কারা ফেসবুকে ভূয়া পেইজ খুলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এগুলা সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য। তবে তারা নিজ নিজ সমকক্ষকে দোষারোপ করছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এসব করছেন বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ এর ব্যক্তিগত সহকারী শিবলী কায়সার জানান, আমাকেসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানোয় থানায় জিডি করা হয়েছে। পেইজের এডমিন এর খোঁজ মিলেছে। তবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন এর পরে তা প্রকাশ করা হবে। গোপনীয়তার স্বার্থে এখন প্রকাশ করা যাবেনা বলে প্রতিবেদককে তিনি জানান।
স্থানীয় রাজনীতিবিদরা মন্তব্য করে বলেন, ফেজবুক পেইজে এধরণের নোংরামি আমাদের কাম্য নয়। যে-বা যারাই এসব করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হরিদাস মন্ডল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মোহনপুর উপজেলা’ নামক পেইজের বিরুদ্ধে থানায় একটি জিডি এসেছে। জিডি মূলে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত চলছে।
সানশাইন / শামি