সর্বশেষ সংবাদ :

জিয়াউর রহমান দেশের মানুষকে স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন: ভূমিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকাল ৭টায় রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের মানুষকে স্বাধীনতার প্রকৃত সুখ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি সবসময় দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন এবং দেশকে হানাদারমুক্ত করতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করেই বিএনপি দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। মিনু আরও বলেন, জিয়াউর রহমান এরশাদ বা আইয়ুব খানের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেননি। দেশের জন্য তাঁকে অতীতে অনেক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান সর্বোচ্চ অবদান রেখেছেন। তাঁকে সামনে রেখেই দেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনসহ মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
আলোচনা সভা: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য নিয়ে রাজশাহীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বিকেলে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির ও জেলা পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদ।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় দিবসটির ঐতিহাসিক পটভূমি, জাতীয় জীবনে এর প্রভাব এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দিবসটির তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।

মহানগর জামায়াত: নিজস্ব কার্যালয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, “জাতীয় ঐক্য ও সংহতি একটি দেশের অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার অন্যতম ভিত্তি। মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর নবনির্বাচিত আমীর ডাঃ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন, রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মাহবুবুল আহসান বুলবুল, মহানগরীর ত্রাণ ও পুর্ণবাসন সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, আইবিডব্লিউএফ রাজশাহী মহানগরীর সভাপতি সারোয়ার জাহান প্রিন্স, জামায়াত নেতা মোহা. আবু বকর সিদ্দীক।
মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শাহাদাত হোসাইন এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ দিনটি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়ন এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের মধ্য দিয়েই এ দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করা সম্ভব। “জাতীয় ঐক্য ও সংহতি একটি দেশের অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার অন্যতম ভিত্তি। মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় রাজশাহী মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করা হয়। দিবসের সূচনায় সূর্যদয়ের সাথে সাথে ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বাদ জোহর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা ও দোয়া মাহফিল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর কুদরাত-ই-জাহান, রাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম, গুণী শিক্ষক প্রফেসর মো. গোলাম ছাদিক (ফার্মেসী বিভাগ), ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম, প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আরিফুল ইসলাম। সেখানে অন্যদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন, প্রক্টর প্রফেসর মো. মাহবুবর রহমান, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর এস এম কামরুজ্জামান, সিন্ডিকেট সদস্য, অনুষদ অধিকর্তা, বিভাগীয় সভাপতি, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীসহ অন্য মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।
সিনিয়র পেশ ইমাম ফাহিম মাহমুদ মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে দেশের ঐক্য ও সংহতি কামনা করে দোয়া করা হয়।
শিক্ষাবোর্ড: রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পবিত্র কোরআন তেলোয়াত, গীতাপাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের প্রশাসনিক ভবনে চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী এর সভাপতিত্বে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা অনুষ্ঠানে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুর রউফ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরীন, কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মো. মাহবুব হাসান, বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. শামীম হাসান, অনুষ্ঠানের আহবায়ক ও উপ-পরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) মো. ইব্রাহিম হোসেন, সিনিয়র সিস্টেম এনালিষ্ট (চলতি দায়িত্ব) প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম নবী, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আজাদ আলী। অনুষ্ঠানের সভাপতি তাঁর বক্তব্যে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস সম্পর্কে ইতিহাসভিত্তিক আলোচনা করেন। তিনি বলেন- জাতীয় ঐক্য ও সংহতি একটি সমৃদ্ধ মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও দেশপ্রেম চর্চার মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠান সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন প্রধান মূল্যায়ন অফিসার (চলতি দায়িত্ব) জনাব এস. এম. গোলাম আজম। এছাড়া বোর্ডের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ স্বত:স্ফুর্তভাবে এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে অনুষ্ঠানকে সাফল্যমণ্ডিত করেন।
নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি: দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় দিবসের প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য ও ফলাফল তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এম ছায়েদুর রহমান। এছাড়াও অতিথি বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. জিএম শফিউর রহমান, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার প্রফেসর মো. আনসার উদ্দিন, রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব মো. আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, মতিহার থানাধীন ২৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আনসার আলী প্রমুখ। আলোচনা সভার সঞ্চালনায় ছিলেন আইন বিভাগের প্রভাষক জনাব মো. আবু সাঈদ। আলোচনা অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ আজিবার রহমানসহ সকল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন । আলোচনা সভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য রালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিন করে।
রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ: দিবসটি উপলক্ষ্যে কলেজ মিলনায়তনে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ব্রজেন্দ্র নাথ সরকার ও এডুকেশন ক্যাডার্স কাউন্সিলের সভাপতি প্রফেসর মোঃ তৌরেজ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি, রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের আহ্বায়ক প্রফেসর মোঃ মোজাফফার হোসাইন। আলোচনা সভায় বক্তারা ৭ নভেম্বর “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস” এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্ব রক্ষায় এর গুরুত্ব সম্বন্ধে তথ্যভিত্তিক আলোচনা করেন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে “৭ নভেম্বরের ঘটনাবলি এবং গুরুত্ব সম্বন্ধে শিক্ষার্থীদের অধিকতর সচেতন করার জন্য বর্তমান সরকারকে ৭ নভেম্বরকে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভূক্ত করার আহ্বান জানান”। তিনি আরো বলেন, “৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান মুক্ত হয়ে দেশের হাল ধরার ফলে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক স্থিতিশীলতা এসেছিল।” বিশেষ অতিথি প্রফেসর ড. ব্রজেন্দ্র নাথ সরকার ও সভাপতি প্রফেসর মোঃ মোজাফফর হোসাইন তাঁদের বক্তব্যে দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ মতলেবুর রহমান সরদার।
আলোচনা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরিশেষে, দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সিপাহী-জনতার বিপ্লবের বীর শহীদসহ সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
রামেবি: ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সংঘটিত সিপাহী-জনতার বিপ্লবের লক্ষ্য ও প্রেরণা বুকে ধারণ করে আমাদের এখন জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যলয়ে (রামেবি) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রামেবির উপাচার্য প্রফেসর ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক একথা বলেন। গতকাল অনুষ্ঠানের শুরুতে রামেবি প্রশাসন ভবনে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন যথাক্রমে উপাচার্য প্রফেসর ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক ও কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. জাকির হোসেন খোন্দকার। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ডা. মো. শাহ আলম, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) নাজিমউদ্দীন আহম্মদ , উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. মো. আব্দুল ওয়াদুদ, সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম, সহকারী কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ডা. মো. মনির-উল-ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক অর্থ ও হিসাব (অ.দা.) খাইরুল আলমসহ রামেবির বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারিবৃন্দ। পতাকা উত্তোলনের পর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক। অনুষ্ঠান শেষে জাতির ঐক্য-সংহতি, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও দেশের কল্যাণ এবং বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলন-সংগ্রামের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ (রোববার) দ্বিতীয় দিন দুপুরে রামেবির পক্ষ থেকে এতিমদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করা হবে।
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়: সকাল ৬ টা ১৬ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আনুষ্ঠানিকতা। শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বিশেষ রচনা প্রতিযোগিতা। পরে সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান। শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন ঘোষণা করেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. খাদেমুল ইসলাম মোল্যা।
উদ্বোধনের পর বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. মো. হারুন অর রশীদ। এরপর বক্তব্য প্রদান করেন কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. শহীদুর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, একটি দেশের অগ্রযাত্রায় জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি শিক্ষার্থীদের দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ দিবস আমাদের জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের চেতনাকে ধারণ করতে অনুপ্রাণিত করে। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের উচিত দেশের ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা এবং সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখা।’ সবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার (ভারপ্রাপ্ত) এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিবুল্লাহ বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশল স্কুলের ডীন প্রফেসর ড. শামীম আহমদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি স্কুলের ডীন প্রফেসর ড. মো. বায়তুল মোকাদ্দেছুর রহমান, ব্যবসায় ও আইন স্কুলের ডীন প্রফেসর ড. কানিজ হাবিবা আফরিন, আইন ও মানবাধিকার বিভাগের কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর আবু নাসের মো. ওয়াহিদ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. মুন্সী ইসরাইল হোসাইন, নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর ড. সুলতানা রাজিয়া, অর্থনীতি বিভাগের কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর মো. আব্দুর রশিদ সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আব্দুল আউয়াল, পরীক্ষা নিয়স্ত্রক ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার পারমিতা জামান, প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের উপ-পরিচালক মো. সিরাজুর রহমান এবং আইসিটি সেল-এর উপ-পরিচালক ফরিদুজ্জামান খানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, ও শিক্ষার্থীরা।
রুয়েট: দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সহ হলসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে রাজশাহীর স্থানীয় তিনটি মাদ্রাসার শতাধিক এতিম শিশুদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রীসহ খাবার বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার, অধ্যাপক ড. নিয়ামুল বারী, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ এম রাসেল, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী। ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক ড. মো: রবিউল ইসলাম সরকার শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরনকালে বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য ও দেশের গনতান্ত্রিক যাত্রায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভুমিকা বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এছাড়াও ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-শিক্ষা, ঐক্য ও প্রগতি’ বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
যোহরের নামাজ শেষে রুয়েটের কেন্দ্রীয় জামেমসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়াতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত সহ দেশ ও জাতীর সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। এদিকে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার যুগান্তকারী বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এক বক্তব্যে তিনি ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় জীবনে অবিস্মরণীয় দিন এবং জাতীয় ঐক্য ও গনতান্ত্রিক যাত্রায় দিনটি দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।


প্রকাশিত: November 8, 2026 | সময়: 6:29 am | সুমন শেখ