সর্বশেষ সংবাদ :

পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী মানববন্ধনে অংশ নেওয়ায় : ঈশ্বরদীতে শিক্ষার্থীদের উপর সন্ত্রাসী হামলা ও গুলি বর্ষণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: ঈশ্বরদীর পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করার জেরে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলা সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া বড় পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা রাতেই ঈশ্বরদী থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। আহতদের মধ্যে সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া খাঁ পাড়া গ্রামের হামিদুল প্রামানিকের ছেলে অয়ন (১৭)। সে আরামবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষার্থী ও অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও হামলায় অন্য আহতরা হলেন- সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া স্কুল পাড়া এলাকার সুরত আলীর ছেলে সানোয়ার হোসেন (২৬), ঈশ্বরদী পৌর সভার পূর্বটেংরী তছেড়পাড়া এলাকার আমানউল্লাহ খাঁ এর ছেলে আকাশ খাঁ (২৬)। এছাড়াও আরো অনেকের ওপর নৃশংস হামলা, মারধর ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
আহত স্কুল ছাত্র অয়নের বড় ভাই অন্তর জানান, আমাদের এলাকায় গত বেশ কিছুদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ঝামেলা চলে আসছে। মাঝদিয়া স্কুল পাড়া পদ্মা নদীর ধারে একটি কফি হাউজ রয়েছে, যেখানে সবাই অবসর সময় কাটায়। সেখানে নদীর তীঁর থেকে সন্ত্রাসী বাহিনীর লোক এসে অতর্কিতভাবে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। শিক্ষার্থী, মুরুব্বী ও যুবসমাজ কাউকেই তারা ছাড় দেয়নি। এই ঘটনায় আমার ছোট ভাই অয়নসহ আরও ৫-৭ জন গুরুতর আহত হয়েছে।
এর আগে স্কুল পাড়ার সানোয়ার নামে এক ছেলেও হামলার শিকার হয়েছিল এবং তার মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। আমার ছোট ভাই আহত অবস্থায় সেখানে থাকায় আমি খবর পেয়ে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। ঘটনার সময় আমার ছোট ভাই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল, আমি ছিলাম না। তার কথামতো আমি যখন রানিং অবস্থায় সেখানে যাই, তখন আমার উপরও গুলি বর্ষণ করা হয়।
গুরুতর আহত অয়ন বলেন, মাজদিয়া বড় পাড়া কফিশপের কাছে অতর্কিতভাবে একদল লোক এসে আমাদের মারধর করতে থাকে এবং কেউ একজন পেছন থেকে আমার মাথায় কোপ দেয়।
গুলিবিদ্ধ আকাশ বলেন, সাঁড়ায় কফি হাউজে সন্ধ্যায় কফি খেতে গিয়েছিলাম হটাৎ গোলাগুলির শব্দ শুনে ওখান থেকে চলে আসতে গেলে আমার মাথা গুলি লাগে। নদীর জলদস্যু কাকন বাহিনীর লোক গুলি করতে পারে বলে ধারণা করছি।
আহত ও তাদের স্বজন এবং এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় জামাত নেতা ইলিয়াস খান, মঞ্জু, পায়েল হোসেন রিন্টু, কনক মন্ডলের লোকজন জলদস্যু কাকন বাহিনীকে সাথে নিয়ে এই সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পরে এলাকাবাসী ও আহতদের আত্মীয়-স্বজনরা ঐক্যবদ্ধভাবে একত্রিত হয়ে ঈশ্বরদী থানার মূল ফটকের সামনে ঘণ্টা ব্যাপী অবস্থান নিয়ে বালু উত্তোলন বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বর্তমান ঈশ্বরদী উপজেলা সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া গ্রামের পরিস্থিতি থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশি নিরপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এবিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, ঘটনার পর পরই সাঁড়া ইউনিয়নের মাজদিয়া গ্রাম থেকে মারামারির সংবাদ আসে, সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌছায় এবং দুই জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়। সেখানে দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, একটি পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রকাশিত: November 4, 2026 | সময়: 7:35 am | সুমন শেখ