, , ।
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও যথাযথ তত্ত্বাবধানের অভাবে আলাউদ্দিন আহমেদ (৫৬) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পিত্তথলিতে পাথর অপসারণের জন্য ল্যাপারোস্কোপিক (কি-হোল) সার্জারি করতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটে। রোববার ভোর তিনটার দিকে বনপাড়া বেসরকারি আমিনা হাসপাতাল এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত আলাউদ্দিন উপজেলার কুমরুল গ্রামের ইদু প্রামাণিকের ছেলে। তিনি বনপাড়া বাজারে বস্ত্র ব্যবসায়ী ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকালে পিত্তথলিতে পাথর অপসারণের জন্য আলাউদ্দিনকে বনপাড়ার আমিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সন্ধ্যায় পাশের উপজেলা গুরুদাসপুর থেকে এসে ডা. আল রাজী সুমন তাকে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারী করেন। তবে এর কিছুক্ষণ পর থেকেই রোগীর প্রচন্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দীর্ঘ সময়েও রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
স্বজনদের অভিযোগ, বিষয়টি বারবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা রক্তক্ষরণ বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেননি এবং তার চিকিৎসায় চরম অবহেলা প্রদর্শন করেন। অবশেষে ভোর রাতে তিনি মারা যান।
এ ব্যাপারে নিহতের ভাতিজা সাদেকুল ইসলাম বলেন, অপারেশনের পর ক্লিনিকে ভাল মানের চিকিৎসক না থাকায় রোগীর সঠিক ফলোআপ হয়নি, এমনকি রক্তক্ষরণটাও বন্ধ করতে পারেনি। মুলত তাদের অবহেলার কারণেই আমার চাচার মৃত্যু হয়েছে।
ডা. আল রাজী সুমন বলেন, আমি সঠিকভাবেই অপারেশন করে দিয়ে চলে এসেছি। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলেও আমাকে জানায়নি। পরে কি হয়েছে সেটা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানে।
বনপাড়া আমিনা হাসপাতালের স্বত্তাধিকারী ডা. আনসারুল হক বলেন, খবর দেয়ার পর ডাক্তার এসে ল্যাপারস্কিক সার্জারী করেছেন। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। কেন কি হয়েছে সেটা উনিই বলতে পারবেন।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।