, , ।
সাইফুল ইসলাম, গোদাগাড়ী: রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ধার ঘেঁষে রাখা হয়েছে বিশাল বালুর স্তূপ। প্রায় প্রতিদিন ড্রোজারের মাধ্যমে কোন কোন জায়গায় ডাম্প ট্রাক সহ অন্যান্য যানবাহনে করে বালু সড়কের পাশে স্তূপ করা হচ্ছে। আবার বালু বিক্রি হলে সেগুলো ডাম্প ট্রাক সহ অন্যান্য যানবাহনে ওঠানো হচ্ছে। বালুর স্তূপগুলো মূল সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এতে করে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। বিশেষ করে হালকা বাতাস হলেই উড়ন্ত বালু চালকদের চোখে-মুখে এসে পড়ছে, ফলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
মোটরসাইকেল, সিএনজি, অটোরিক্সা ও ছোট যানবাহনের চালকদের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এবং বালুর স্তূপের কারণে বালু উড়ে পরিবেশও দূষণ হচেছ। সংশ্লিষ্ট র্কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকার অভিযোগ উঠেছে।
এমনই চিত্র দেখা যায় রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের পাশে গোদাগাড়ী উপজেলার সোনাদিঘী, গোপালপুর, বিজয়নগর, সারেংপুর জৈতগশায়, সুলতানগঞ্জ গাংগোবাড়ী ও মহিশালবাড়ী সহ প্রায় ১৫টি ¯’ানে মহাসড়ক ঘেঁষে বালুর স্তূপ রাখা হয়েছে।
¯’ানীয় অটো চালক দুলাল বলেন, এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করি। বাতাস উঠলেই বালু উড়ে চোখে ঢুকে যায়, সামনে কিছু দেখা যায় না। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকার ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি মোটরসাইকেল চালক ওবাইদুল্লাহ বলেন, রাস্তার পাশে বালুর স্তূপ থাকায় আমরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করি। এগুলো সরানো না হলে যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।’
নাম প্রকাশে অনি”ছুক সারেংপুর জৈতগশায় বালু মহলের এক বালু ব্যবসায়ী জানান, তাঁরা এসব বালু চাঁপাই নবাবগনঞ্জ জেলা থেকে ইজারা নিয়ে পদ্মা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রির জন্য সড়কের পাশের স্তূপ করে রাখেন।
এই বালু আশপাশের জেলা এবং উপজেলায় প্রতিদিনই শত শত ট্রাক বিক্রি হয়। এভাবে বালু ব্যবসার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও ভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ঝুঁকি তো কিছুটা আছেই। কী করব ? কোথাও জায়গা না পেয়ে এভাবে স্তূপাকারে রাস্তার পাশে রাখা হয়।
সুলতানগঞ্জ গাংগোবাড়ী এলাকার এক বালু ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বৈধভাবে সর্বো”চ দর দিয়ে আমরা ইজারা নিয়েছি। বালুর কারণে কিছুটা সমস্যা হয় এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। তবে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি।
¯’ানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা হয় তাঁরা বলেন, রাস্তার পাশে এভাবে বালু স্তূপ করে রাখায় এবং বালু নামানো-ওঠানোর ফলে মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হ”েছ। ভোগান্তি বাড়ছে মানুষের। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।
গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ-সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি এ্যাডভকেট সালাউদ্দীন বিশ্বাস বলেন, এভাবে সড়কের পাশে বালুর ব্যবসা করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হ”েছ। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে কিš‘ প্রশাসন কোনো ব্যব¯’া নি”েছ না।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) রাজশাহী জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট তৌফিক আহমেদ টিটু বলেন, রাজশাহী- চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক তুলনামূলক সরু দুই লেন। যানবাহনের চাপ সব সময় থাকে। মহাসড়কে বেশ কিছু বাঁক রয়েছে, যেখানে দুর্ঘটনা বেশি হয়। বালুর ব্যবসার কারণে এখন ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। এভাবে মহাসড়কের পাশে বালুর স্তূপ রাখা কিছুতেই কাম্য নয়।
জানতে চাইলে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, মহাসড়কের পাশে বালু রেখে ব্যবসা করা অবশ্যই গর্হিত কাজ। সড়ক ও জনপথ বিভাগ তা সরানোর উদ্যোগ নিলে উপজেলা প্রশাসন অবশ্যই সঙ্গে থাকবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, মহাসড়কের অন্তত ৩৩ ফুট দূরত্বের মধ্যে কোনো ¯’াপনা বা ব্যবসা পরিচালনা করার কথা, যা অমান্য করে অনেকে সড়কের ওপর বা পাশ ঘেঁষে বালু রাখছেন। সে ক্ষেত্রে এ ধরনের বালুর স্তূপ করলে তা দেখার ও আইনগত ব্যব¯’া নেওয়ার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসনের।
এ বিষয়ে রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তাছমিনা খাতুন বলেন, সড়ক-মহাসড়ক ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বালুর স্তূপ করে ব্যবসা বা মজুত করা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং দন্ডনীয় অপরাধ। সে সাথে বালুর ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই বালুর স্তূপ ঢেকে রাখতে হবে। পরিবহনের সময়ও বালু ঢেকে রাখতে হবে। এ বিষয়ে নোটিশ দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।