, , ।
সাইফুল ইসলাম, গোদাগাড়ী: প্রকৃতিতে শরৎ শেষে হেমন্তের হাত ধরে শীতের আগমনী বার্তা শুরু হয়ে গেছে। কার্তিকের এই সময়ে হালকা ঠান্ডার আমেজ জানান দিচ্ছে যে, আর কিছুদিনের মধ্যেই শীত জেঁকে বসবে। আর তাই গ্রামীণ জনপদ থেকে শুরু করে শহুরে জীবন সবখানেই এখন চলছে শীত বরণের আগাম প্রস্তুতি।
এখনই প্রকৃতি যেন জানান দিচ্ছে শীতের আগমনি বার্তা। শরতের কুয়াশায় সবুজ ঘাস ও ধানের সবুজ পাতায় জমেছে শিশির। দূর থেকে সবুজ ধানক্ষেত ও সবুজ ঘাস দেখলে মনে হয় ঘাস এবং ধানগাছগুলোর মাথায় যেন মুক্তার মতো শিশিরকণা জমে আছে। সকালে সূর্যালোকে দুর্বাঘাস ও ফসলের পাতায় শিশিরবিন্দু ঝলমলিয়ে উঠছে। মাঝে মধ্যে কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে ভোরের আকাশ।
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতেও ইতোমধ্যে দেখা দিয়েছে শীতের আগমনি বার্তা। কয়েকদিন থেকে আবহাওয়ায় এসেছে পরিবর্তন। উত্তরের শীতল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। রাতে হালকা ঠান্ডা, ভোররাতে ঠান্ডার পরিমাণ সামান্য বেশি আর দিনে বেশ গরম। একই সঙ্গে বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতের শাকসবজি। তবে দাম একটু চড়া। আগাম শীতে সবজি বিক্রি করে অতিরিক্ত দাম পেয়ে কৃষকও খুশি।
শীতের প্রস্তুতির অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে দেশজুড়ে ধুনকর ও কাপড়ের দোকান গুলোতে লেপ-তোশক তৈরির ব্যস্ততা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। পুরনো লেপ ভেঙে নতুন করে তৈরি করা কিংবা নতুন তুলা দিয়ে লেপ-তোশক ও জাজিম বানানোর জন্য মানুষ এখন থেকেই অর্ডার দেওয়া শুরু করেছেন।
লেপ-তোশকের কারিগররাও ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। তবে এবার লেপ-তোশক তৈরির খরচ বেড়েছে। আগের মতো এখন সস্তায় কারিগররা লেপ-তোশক তৈরি করতে পারছেন না। বেড়েছে তুলা, কাপড় ও শ্রমিকদের মজুরি। কাজেই লেপ-তোশক তৈরিতে খরচ বেশি হাঁকছেন দোকানিরা।
আলমারিতে বা ট্রাঙ্কে সারা বছর তুলে রাখা ভারী জ্যাকেট, চাদর, সোয়েটার বা কম্বলগুলো বের করে কড়া রোদে শুকিয়ে নেওয়ার ধুম পড়েছে। অনেকেই দীর্ঘদিনের জমে থাকা ধুলোবালি ও ভ্যাপসা গন্ধ দূর করতে এগুলোকে ড্রাই ক্লিন বা ধুয়ে প্রস্তত রাখছেন।
প্রামাঞ্চলে শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গেই খেজুরগাছ প্রস্তুতির ধুম পড়ে গেছে। গাছিরা এখন থেকেই গাছ পরিষ্কার করা এবং রস সংগ্রহের জন্য নলি ও ভাড় পাতার আগাম প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে গোদাগাড়ীতে আগের মতো খেজুর গাছ দেখা যায় না। আগের মতো নতুন করে খেজুরের চারা রোপণ করা হচ্ছে না এ অঞ্চলে। এ কারণেই গ্রামাঞ্চল থেকে দিন দিন কমে যাচ্ছে খেজুর গাছ ।
কৃষক থেকে শুরু করে ছাদবাগানিরা এখন শীতকালীন সবজি ও ফুলের চাষের জন্য মাটি প্রস্তত করছেন। বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলা, লালশাক এবং গোলাপ,গাঁদা ফুল, চন্দ্রমল্লিকা,ডালিয়াসহ বিভিন্ন রকমের শীতের চারা রোপণের আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে বাতাসে আর্দ্রতা কমতে শুরু করে, যার ফলে ত্বক শুষ্ক, খসখসে ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তাই ত্বকের সুরক্ষায় শীতের তীব্র ঠান্ডা পড়ার আগেই আগেভাগে ময়েশ্চারাইজার, বডি লোশান, কোল্ড ক্রিম ও লিপবামসহ বিভিন্ন প্রসাধনী কেনা শুরু করেছে অনেকে।
শীত আসছে বলেই গোদাগাড়ীর বিভিন্ন পাড়া-মহাল্লা হাটবাজারে নানা পিঠার দোকান বসতে শুরু করেছে। গ্রামের বেকার শ্রমজীবী মহিলারা পিঠা তৈরি করে মানুষকে রসনা তৃপ্তি দিচ্ছেন। সকালে এই পিঠার স্বাদ নিতে অনেকে দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন। মাদারপুর মহাল্লার পিঠা খেতে দোকানে আসা আবু সালেক নামে একজন অটো রিক্সাচালক জানান, প্রতিদিন ভোরে পিঠা খেয়ে যাত্রীর সন্ধানে রিকশা নিয়ে রেব হই ।
গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মর্নিংওয়াকে আসা শিক্ষক আব্দুর রহিম জানান, গত কয়েক দিন থেকে সকালে হাঁটার সময় শীত অনুভব করছি। সকালে মনে হয় শীতের দিন চলে এসেছে। তবে রাতে আর ফ্যানের প্রয়োজন হয় না। ফ্যান চালালে কাঁথা ব্যবহার করতে হয়।