, , ।
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: প্রেমের ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্কের জেরে তরুণীকে বিয়ের মাত্র ১১ দিনের মাথায় সন্তান প্রসব, নবজাতক বিক্রি এবং গোপনে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে স্বামীর বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। নাটোরের বড়াইগ্রামের গোপালপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার পুলিশ ভুক্তভোগী গৃহবধূর মামা শ্বশুর মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। আটক মিজানুর দৌলতপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি কচুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে কর্মরত আছেন।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর গ্রামের দুলাল ভুঁইয়ার ছেলে ইমন ভুঁইয়া (২৩) বেশ কিছুদিন ধরে ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সে তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। একপর্যায়ে ওই তরুণী গর্ভবতী হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক চাপে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের মাত্র ১১ দিনের মাথায় ওই গৃহবধূ একটি ফুটফুটে সন্তান প্রসব করেন।
অভিযোগ উঠেছে, সন্তান জন্মের পরপরই স্বামী ও তার পরিবার নবজাতকটিকে অন্যত্র মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়। এরপরই অভিযুক্ত স্বামী গোপনে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে বিদেশে পালিয়ে যায়। স্বামী-সন্তান দু’জনকেই হারিয়ে ওই তরুণী বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ অভিযুক্ত মামা শ্বশুরকে আটক করেছে।
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান জানান, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলার ভিত্তিতে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার অপর আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।