সর্বশেষ সংবাদ :

একান্ত সাক্ষাৎকারে জয় মুখার্জি বাংলাদেশকে আমি নিজের দেশই মনে করি

ফয়সাল আলম: দশম বারের মতো রাজশাহীর আন্তর্জাতিক জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়নশীপে ম্যাচ রেফরির দায়িত্ব পালন করতে রাজশাহীতে এসেছেন ভারতের জয় মুখার্জি। এর আগে এ দায়িত্ব পালন করতে নয়বার এসেছেন রাজশাহীতে। শুধু রাজশাহীতে নয় ঢাকাতেও তিনি ম্যাচ রেফরির দায়িত্ব পালন করে থাকেন। রাজশাহীর পর ঢাকায় যাবেন ম্যাচ রেফরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে। ঢাকায় এটা হবে তাঁর নবমবারের মতো দায়িত্ব পালন। তিনি আইটিএফ অনুমোদিত হোয়াইট ব্যাজ রেফরি। আগামী সপ্তাহে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনের প্রশিক্ষণ কোর্সে টেনিসে বাংলাদেশের উঠতি আম্পায়ারদের প্রশিক্ষণ দেবেন। বুধবার সন্ধ্যায় রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে কথা হয় জয় মুখার্জির সাথে।
জয় মুখার্জির জন্ম ১৯৭৫ সালে ভারতের পুরাতন কোলকাতার শ্যামবাজারে। সেখানেই কেটেছে তাঁর শৈশব ও কৈশর। সেখানেই বেড়ে ওঠা, সেখানেই লেখাপড়া। তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ল পাশ করেন। পেশায় তিনি একজন আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক টেনিস রেফরি। টেনিসের প্রতি তাঁর দুর্বলতা ছোটবেলা থেকেই। মাত্র আট বছর বয়সে ১৯৮৩ সাল থেকেই তিনি টেনিস খেলা শুরু করেন। ১৯৮৭ সালে ভারতে তিনি প্রথম টুর্নামেন্ট খেলেন। জয় মুখার্জি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। টেনিস খেলতে বাবা-মা কখনও বাধা দেননি বরং উৎসাহই দিয়েছেন বলে জানান অত্যন্ত বিনয়ী ও মিষ্টভাষী জয় মুখার্জি।
বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বালাদেশকে আমি নিজের দেশই মনে করি’। তিনি বলেন, রাজশাহীর মানুষ,বাংলাদেশের মানুষ খুবই অতিথি পরায়ণ। বাংলাদেশে তাঁর অনেক বন্ধু-বান্ধব আছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গত দুই বছর তাঁর বাংলাদেশে আসা হয়নি। বাংলাদেশে আসতে না পারার দুঃখের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন,খুব কষ্ট লেগেছে। সেসময় তিনি অনেক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। এতটাই কষ্ট পেয়েছিলেন যে,তাঁর দু’চোখে পানি চলে এসেছিল। সাক্ষাৎকার দেয়ার সময়ও তিনি অনেক আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন। পারিবারিক কারণে এবারও তাঁর বাংলাদেশে আসা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। বাংলাদেশে আসার আগের দিন তাঁর স্ত্রী কোলকাতার ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শিল্পী মুখার্জি দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় তিনি একপ্রকার ধরেই নিয়েছিলেন যে তাঁর হয়তোবা এবারও বাংলাদেশে আসা হবেনা। শেষ পর্যন্ত আসতে পেরে তিনি খুবই আনন্দিত। একই সঙ্গে তিনি তাঁর স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ যে তাঁর স্ত্রী আহত অবস্থায় থেকেও তাঁকে বাংলাদেশে আসতে সহায়তা করেছেন,উৎসাহ দিয়েছেন।
বাংলাদেশ – ভারত সম্পর্ক আবারও আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠুক তিনি সেটা মনেপ্রাণে চান। এক্ষেত্রে তাঁর যদি কোনো কিছু করণীয় থাকে তবে তিনি তা করতেও প্রস্তুত আছেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের টেনিস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেয়েদের উন্নতি হচ্ছে। ছেলেরাও উঠে আসছে। তিন/ চারজন ভালো স্ট্যান্ডার্ডে খেলছে। জিততেও পারছে।
রাজশাহী শহর সম্পর্কে তিনি বলেন, অত্যন্ত সুন্দর ও পরিপাটি একটি শহর। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সুন্দর একটি নগরী। এখানকার বায়ূ অত্যন্ত নির্মল। বয়ূ দূষণ নেই। রাজশাহী তাঁর কাছে খুব ভালো লাগে। বারবার আসতে ইচ্ছে করে। রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের টেনিস কোর্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের। পরিকল্পনা ও নির্মাণে কোনো ত্রুটি নেই।


প্রকাশিত: October 9, 2026 | সময়: 6:16 am | সুমন শেখ