, , ।
নুরুজ্জামান, বাঘা: পদ্মার পানি বাড়লে ডুবে যায় বিস্তীর্ণ চর। আবার পানি কমতেই সেই চরজুড়ে শুরু হয় নতুন ফসলের প্রস্তুতি। এবারের বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বিস্তীর্ণ পদ্মার চরাঞ্চলে এখন একই দৃশ্য। কোথাও জমি চাষে ব্যস্ত কৃষক, কোথাও চলছে বীজতলা তৈরির কাজ। আগাম আলু, সরিষা, ভুট্টা, ছোলা, মসুর ও গমের পাশা-পাশি শীতকালীন সবজি আবাদে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন তাঁরা।
বাঘা উপজেলার পদ্মা-তীরবর্তী চরাঞ্চলের মধ্যে চক রাজাপুর ইউনিয়নের পুরো এলাকা এবং গড়গড়ি ও পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আংশিক এলাকা রয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এসব এলাকার কৃষি জমিতে এখন চলছে নতুন ফসল ফলানোর তোড়জোড়। এ অঞ্চলের কৃষকরা নানা রকম ফসল ফলানোর প্রস্তুতি সহ আগাম শীতকালিন সবজি চাষে ঝুকে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বাঘার চরাঞ্চলকে উপজেলার অন্যতম ফসলের ভান্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পদ্মার পলিমাটিতে গড়ে ওঠা এসব জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল ও সবজি চাষ হয়ে থাকে। বন্যার পর জমিতে পলি পড়ায় অনেক সময় মাটির উর্বরতাও বাড়ে। ফলে পানি নেমে যাওয়ার পর দ্রুত আবাদে নামেন কৃষকেরা।
চরাঞ্চলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা জমি প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ জমিতে লাঙল দিচ্ছেন, কেউ মই দিচ্ছেন, আবার কেউ আগাম আলু, সরিষা ঢেঁরস ও অন্যান্য ফসলের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে পালং শাক, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, এবং টমেটো চাষের প্রস্তুতি চলছে সমান তালে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরাঞ্চলের কৃষিতে মৌসুমি ফসলের ওপর অনেকটাই নির্ভশীল তাঁদের আয়। বন্যার কারণে ফসলের ক্ষতি হলেও পানি নেমে যাওয়ার পর দ্রুত জমিতে নতুন ফসল আবাদ করতে পারলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে। এ কারণে সময় নষ্ট না করে তাঁরা জমি প্রস্তুত করছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাঘার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার মধ্যে চরাঞ্চলকে ফসল উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় পেঁয়াজ, রসুন, আলু-সহ বিভিন্ন ধরনের সবজির ব্যাপক উৎপাদন হয়। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এসব কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
বিশেষ করে পেঁয়াজ-রসুন উৎপাদনে চরাঞ্চলের কৃষকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পর উৎপাদিত পেঁয়াজ-রসুন রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমদানি করা হয়। ফলে চরাঞ্চলের কৃষি শুধু স্থানীয় অর্থনীতিই নয়, বৃহত্তর বাজারের সঙ্গেও সংযুক্ত।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মার চরাঞ্চলে একদিকে যেমন বন্যার ঝুঁকি রয়েছে, অন্যদিকে বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর দ্রুত ফসল উৎপাদনের ও সুযোগ রয়েছে। তাই কৃষকদের জন্য সময় মতো জমি প্রস্তুত, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে শীত মৌসুমকে সামনে রেখে সবজির আবাদ বাড়ায় স্থানীয় বাজারে এর সরবরাহ বাড়বে বলেও আশা করছেন অত্র এলাকার ব্যবসায়ীরা। তবে অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো বাজারদর প্রত্যাশা করছেন কৃষকেরা।
চরাঞ্চলের কৃষক জগলু শিকদার ও শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বন্যার পানি সরে গেছে। নদীর বুকে জেগে উঠেছে চর। সেই চরেই এখন নতুন স্বপ্ন বুনছেন কৃষকেরা। কয়েক দিন আগে যে মাঠ পানিতে তলিয়ে ছিল, সেখানেই খুব সম্প্রতি সবুজ ফসলের সমারোহ দেখবেন তারা।