, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের প্রলুব্ধ করে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়ার অভিযোগে দালাল চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে এসআরবি-৫-এর একটি দল। অভিযান শেষে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিত সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটির সদস্যরা রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ ও প্রতারণার মাধ্যমে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেত। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো।
দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে আসা রোগীদের অনেকেই হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত না হওয়ায় সহজেই দালালদের কথায় বিভ্রান্ত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বহির্বিভাগ ও হাসপাতালের আশপাশে রোগী ও স্বজনদের টার্গেট করত দালাল চক্রের সদস্যরা।
এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে রোগী ও স্বজনেরা। তারা জানান, নিয়মিত এই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে হাসপাতাল দালালদের সিন্ডিকেট মুক্ত হবে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সুমন নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, “আমরা দূরের এলাকা থেকে চিকিৎসার জন্য এখানে এসেছি। হাসপাতালের কোথায় কী করতে হবে, তা ঠিকমতো জানতাম না। এ সুযোগে কয়েকজন এসে দ্রুত পরীক্ষা করানোর কথা বলে আমাদের বাইরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। পরে বুঝতে পারি, তারা দালাল।”
সজীব আলী নামের আরেক রোগী বলেন, “হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে দালালদের কারণে আমরা খুবই বিব্রত হয়েছি। তারা বারবার বলছিল, এখানে পরীক্ষা করালে রিপোর্ট পেতে দেরি হবে, বাইরে গেলে দ্রুত রিপোর্ট পাওয়া যাবে। এভাবে রোগীদের বিভ্রান্ত করা বন্ধ হওয়া দরকার।”
অভিযান শেষে আটক সাতজনকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিত সরকারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এসআরবি-৫-এর মেজর কবির বলেন, “রোগীদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা এবং হাসপাতালকেন্দ্রিক দালাল চক্রের কার্যক্রম বন্ধ করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের হয়রানি ও প্রতারণা বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিত সরকার বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা আসেন। দালালরা এসব রোগীকে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করান। রোগী ও তাঁদের স্বজনদের হয়রানি বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।