, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: মরুর দেশে বসতে যাচ্ছে সাবেক তারকা ক্রিকেটারদের মিলনমেলা। আগামী ৩ অক্টোবর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও শারজায় শুরু হবে ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস’-এর তৃতীয় আসর। যেখানে বিশ্বের তারকা সাবেক ক্রিকেটারদের সঙ্গে মাঠে নামবে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস। আর এ দলের নেতৃত্বে থাকছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার সঙ্গে দলে জায়গা পেয়েছেন নাসির হোসেন, রুবেল হোসেন, রনি তালুকদার ও ইমরুল কায়েসের মতো পরিচিত মুখেরা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আসন্ন আসরের জন্য শক্তিশালী এ স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। এবারের আসরে বাংলাদেশের পাশাপাশি অংশ নেবে টেস্ট খেলুড়ে প্রায় সব দেশের দল। ফলে লিজেন্ডস চ্যাম্পিয়নশিপে দেখা যাবে শহীদ আফ্রিদি, যুবরাজ সিং, ক্রিস গেইল, ডেভিড ওয়ার্নার, এবি ডি ভিলিয়ার্স ও মঈন আলীদের মতো বিশ্ব ক্রিকেটের সাবেক তারকাদের।
উদ্বোধনের দিন, অর্থাৎ আগামী ৩ অক্টোবরই বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নসের মিশন শুরু হবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। শারজাহ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এরপর ৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
এক দিন বিরতির পর ৭ অক্টোবর একই সময়ে, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে রিয়াদ-নাসিররা। এরপর ৯ অক্টোবর ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ১১ অক্টোবর ভারত এবং ১৪ অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস। এই তিন ম্যাচই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায়। লিজেন্ডস চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশ দলের। ৩ অক্টোবর শুরু হয়ে লিগ পর্বের খেলা শেষ হবে ১৪ অক্টোবর। ফাইনালে উঠতে পারলে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত আমিরাতে থাকতে হবে বাংলাদেশকে।
বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস স্কোয়াড: মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), ইমরুল কায়েস, নাসির হোসেন, রুবেল হোসেন, রনি তালুকদার, এনামুল হক জুনিয়র, আরাফাত সানী, কামরুল ইসলাম রাব্বী, জিয়াউর রহমান, জহুরুল ইসলাম অমি, আবু জায়েদ চৌধুরী, শুভাগত হোম ও ফজলে মাহমুদ রাব্বী।
লিটনের স্বপ্ন এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক
স্পোর্টস ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে জাপানে উড়াল দেওয়ার আগে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি সেরেছেন লিটন-মুস্তাফিজরা। শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজেরা দু’দলে ভাগ হয়ে খেলেছেন প্রস্তুতি ম্যাচও। প্রস্তুতি ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে হাজির অধিনায়ক লিটন দাস। বড় আসরে খেলার জন্য ভাল প্রস্তুতি হয়েছে বাংলাদেশের, তেমনটাই বললেন লিটন।
লিটন বলেন, ‘না, প্রস্তুতি খুবই ভালো হয়েছে। দুটো প্র্যাকটিস গেম খেলার সুযোগ পেয়েছি অনেক দিন পর। আপনারা জানেন যে আমরা লাস্ট টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছি অলমোস্ট জিম্বাবুয়েতে, রাইট? তো ওখান থেকে একসাথে বন্ডিং হওয়ার একটা সুযোগ এই প্রস্তুতি গেম। আমার কাছে মনে হয় আমাদের প্রস্তুতি খুবই ভালো। আর অবশ্যই টার্গেট তো একটাই থাকবে, যেহেতু একটা টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছি, ফাইনালে খেলা এবং ফাইনালে যেন ভালো কিছু করতে পারি।’
এশিয়ান গেমসে লিটনের স্বপ্ন অনেক বড়। সব ক্রিকেটাররাও মুখিয়ে আছে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে। লিটন বলেন, ‘আমার কাছে এটা একটা বড় জিনিস যে ন্যাশনাল টিমের হয়ে তো সার্ভ করছি। সাথে এরকম জায়গায় একটা খেলা, এটাও একটা বড় জিনিস। এখানে একটা গোল্ডের বিষয় থাকে। সো এটাই একটা বিগ ড্রিম এবং আমার মনে হয় সব প্লেয়ারই এক্সাইটেড অনেক।’
২০২৮ লস এঞ্জেলেস অলিম্পিকে যুক্ত হচ্ছে ক্রিকেট। যেখানে খেলার হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু লিটন এগোতে চান ধাপে-ধাপে।
এই ব্যাপারে লিটন বলেন, ‘দেখেন, অলিম্পিক কে না খেলতে চাইবে? কিন্তু প্রথমে, আমরা যদি এই ইভেন্টটা ভালো খেলি, আমার মনে হয় আল্টিমেট জায়গায় ওখানে আমরা পৌঁছে যাব। সো ফোকাস হচ্ছে যে এই ইভেন্টটা আমরা কীভাবে ভালো খেলতে পারি এবং যে জিনিসটা বললাম যে আমরা কীভাবে ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারি। কারণ ফাইনাল খেললেই আপনার একটা অপরচুনিটি থাকবে গোল্ড জেতার, তার আগে তো ফাইনাল পর্যন্ত যেতে হবে।’
জাপানের কন্ডিশন নিয়ে এখনও তেমন ধারণা পাননি লিটনরা। তবে নারী দলের ম্যাচ দেখে এইটুকু নিশ্চিত জাপানের উইকেটে বড় রানের দেখা মেলবে। লিটন বলেন, ‘কন্ডিশন বোঝার জন্য টিভিতে দেখেছি, বিশেষ করে মেয়েদের গেমগুলা। ঐটুট দেখেই যা বোঝার বুঝেছি আরকি।’
সংবাদ সম্মেলনে নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে লিটনকে। গত ৫-৭টা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে রান আসেনি লিটনের ব্যাটে। এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে প্র্যাকটিস ম্যাচেও রানখরায় ভুগছেন লিটন। এ নিয়ে লিটন বলেন, ‘চেষ্টা করছি রান করার। পরিশ্রমের ওপর তো কিছু নাই, আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। চলে আসবে সামনে।’
জাতীয় দলে টি-টোয়েন্টিতে একজন প্রপার স্লগারের অভাব দৃশ্যমান। যার জন্য অনেককেই চেষ্টা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাব্বির রহমানকে দেখা যাচ্ছে সেই ভূমিকায়। এই নিয়ে লিটনের ভাবনা কি? লিটন বলেন, ‘দেখেন, নির্বাচক এবং আমার ভাবনায়, কোচের ভাবনায় সবাই আছে যারা নিচের সারিতে ব্যাটিং করে। জায়গা উন্মুক্ত, যে ভালো ক্রিকেট খেলবে, তারই এখানে আসার সুযোগ আছে। অনেকদিন পর রাব্বি টিমে এসেছে, জিম্বাবুয়েতেও সে ভালো খেলেছে। সো ডেফিনেটলি তার সুযোগটা বেশি। নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের ভেতরে যদি আমি বলি ৫-৬ এ যারা ব্যাটিং করে, এখানে ৩-৪ টা প্লেয়ারই আছে বাংলাদেশে। তো আমরা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে তাদেরকে চেষ্টা করব এবং যাকে ওখানে ভালো মনে হবে, তাকেই খেলানোর চেষ্টা করব।’