, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টির কারূশ্রী জুয়েলার্সে চুরির ঘটনায় আরও ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩১ ভরি ৭ আনা স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা ও স্বর্ণ-রুপা বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। চুরির সঙ্গে জড়িত সাতজন এবং চোরাই মালামাল কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ১৯ জুন ভোরে সাহেববাজার এলাকায় কারূশ্রী জুয়েলার্সে চুরির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন চোর দোকানের সামনে বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রির দোকান বসিয়ে কৌশলে জটলা সৃষ্টি করে। পরে পাশের স্বর্ণের দোকানের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে কারূশ্রী জুয়েলার্সের পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে দোকানে ঢুকে সিন্দুক থেকে বাদীর বর্ণনামতে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ২০০ ভরি রুপা, তিন বক্স স্বর্ণের নাকফুল ও নগদ ২০ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কারূশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তুর্য সরকার বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নির্দেশে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ কমিশনারের তত্ত্বাবধানে ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সিসি ক্যামেরা ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করে চোরদের শনাক্ত করে।
পুলিশ জানায়, চোরের দলটি অত্যন্ত কৌশলী। তারা একটি মোবাইল ফোন একবারের বেশি ব্যবহার করে না। ব্যবহৃত সিমগুলো এমন ব্যক্তিদের নামে নিবন্ধিত, যারা চোরদের চেনেন না এবং তাদের নামে সিম নিবন্ধনের বিষয়েও জানেন না। তারা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় স্থায়ীভাবে অবস্থান করে না।
দলটি বছরে এক থেকে দুটি বড় ধরনের চুরি করে। কোনো চুরি করার আগে তিন থেকে চার মাস ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকা ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর অপরাধ সংঘটন ও নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার কৌশল নির্ধারণ করে। কারূশ্রী জুয়েলার্সে চুরির ক্ষেত্রেও ঘটনার প্রায় চার মাস আগে তারা এলাকায় এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে ব্যবসার কথা বলে সংশ্লিষ্ট স্থান ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।
পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে বাগেরহাটের মোংলা থানার শেহলাবুনিয়া মোর্শেদ সড়ক গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে রুস্তম আলী শেখকে (৬৪) খুলনা মহানগর পুলিশের লবণচড়া থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রুস্তম ও আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির আরেকটি দল ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) গ্রামের আ. হাকিমের ছেলে স্বপন (৬২) ও ইউনুস (৪৫), একই গ্রামের মানিক ফকিরের ছেলে উজ্জল (৩৭), মাধবপুরা গ্রামের মতি ফকিরের ছেলে রিয়াজ ওরফে সুমন ওরফে সুজন ওরফে গেদু (৩৯), বাগেরহাটের শরনখোলা থানার খোন্তাকাটা (জিমতলা) গ্রামের মোসাকের ছেলে বর্তমানে পটুয়াখালীর গলাচিপা থানা এলাকায় বসবাসরত আবু তালেব (৪৫) এবং শরনখোলা থানার পূর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের শেখ ফজলু শেখের ছেলে কালাম শেখকে (৪৮) গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯ সেপ্টেম্বর চোরাই মালামাল কেনার সঙ্গে জড়িত স্বর্ণ ব্যবসায়ী চাঁদপুরের কচুয়া থানার সরকার বাড়ী বাজনীখোলা গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে বর্তমানে ঢাকার সবুজবাগ থানার পাবনাগলি এলাকায় বসবাসরত রবিউল হাসানকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার আরাফাত হাসান জুয়েলার্স থেকে চোরাই মালামাল বিক্রির ২৬ ভরি ৭ আনা স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা এবং চোরাই স্বর্ণ ও রুপা বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এরপর গ্রেপ্তার উজ্জল ও অন্য আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার কোতোয়ালি থানা এলাকার তাঁতীবাজার স্বর্ণপট্টি থেকে আরও ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করে ডিবি।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৩১ ভরি ৭ আনা স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা এবং স্বর্ণ ও রুপা বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে। মামলার চার আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
চুরি যাওয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।