, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে রাজশাহীর পবা উপজেলায় আলু ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সঙ্গে একটি কোল্ড স্টোরেজের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আহাদ আলী ও সদস্য মোহন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আহাদ আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার দৌলতপুর এলাকার রহমান সিডস কোল্ড স্টোরেজে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পবা-তানোর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। এ সময় কোল্ড স্টোরেজের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যায় এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আলু ব্যবসায়ী মো. শমসের আলী। অভিযোগে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শমসের আলীসহ সমিতির কয়েকজন সদস্য আলু সংরক্ষণের ভাড়া নিয়ে কথা বলতে রহমান সিডস কোল্ড স্টোরেজে যান। এ সময় তাঁদের ওপর হামলা করা হয়। বাঁশের লাঠি ও বস্তা সেলাইয়ের লোহার হুক দিয়ে আহাদ আলী, মোহনসহ কয়েকজনকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আহাদ আলী বলেন, হিমাগারের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে কথা বলতে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। পরে হিমাগারের বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি থামাতে গেলে কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে বস্তা টানার লোহার হুক দিয়ে তাঁর মুখে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আহাদ আলীর দাবি, আলুর সংরক্ষণ ভাড়া কমানোর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া ৫ টাকা করা এবং প্রতি বস্তার প্রথম ৫ কেজি আলু ভাড়ামুক্ত রাখা। রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, শুরুতে হিমাগারভাড়া কেজিপ্রতি ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে তা ৬ টাকা ৭৫ পয়সায় নামানো হয়। সর্বশেষ সরকারিভাবে সর্বোচ্চ ভাড়া কেজিপ্রতি ৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা ৫ টাকা ভাড়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।
রহমান সিডস কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক আব্দুল হালিম বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। সরকার এ বছর কেজিপ্রতি ৬ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছে এবং তাঁরা সেই অনুযায়ী ভাড়া নিচ্ছেন। ভাড়া কমানোর বিষয়ে তাঁদের কিছু করার নেই। এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, হিমাগারভাড়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সোমবার এ নিয়ে ঘটনা ঘটেছে এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।