সর্বশেষ সংবাদ :

আত্মহত্যায় প্ররোচনা: হেফাজতে গাজী নজরুল, স্ত্রী মাকসুদা গ্রেপ্তার

সানশাইন ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তেজগাঁ বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, “গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের বাবার দায়ের করা মামলায় তাকে (মাকছুদা) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”
পুলিশ হেফাজতে থাকা গাজী নজরুল ইসলামকেও এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার ফজলুল করিম। তিনি সোমবার সকালে বলেন, “সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামও এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। সংসদ সদস্য হওয়ায় তার গ্রেপ্তারের বিষয়ে কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। সেসব নিয়মকানুন মেনে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।”
রোববার রাতে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। গ্রেপ্তার মাকছুদা সম্পর্কে মরিয়ম খাতুনের দাদি হন। মরিয়মের আপন দাদি মাছুমা ও মাকছুদা দুই বোন। সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহর আপন খালু।
পুলিশ কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, “মরিয়ম যে রুমে থাকতো, সে রুম থেকে তার লেখা কিছু চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।” এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সংসদ সদস্যের এই দ্বিতীয় স্ত্রীর কোনো ফোন ছিল না। তাকে ফোন ব্যবহার করতে দিত না।” রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
গত জুলাইয়ে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রথমে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন। এরপর সংসদ সদস্য তার ফেইসবুকে বিষয়টি নিয়ে একটি পোস্ট লিখে সেখানে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, “গত ১৩ জুলাই, ২০২৬ ইং তারিখে আমার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মোছা. মাকছুদা বেগম ও মোছা. মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি।”
এমপি দাবি করেন, “আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে যোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে এক লক্ষ টাকা আদায় করে।
“আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।” ওই ভিডিওকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার পর গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করে তার দল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।


প্রকাশিত: September 22, 2026 | সময়: 5:14 am | সুমন শেখ