, , ।
সানশাইন ডেস্ক: দেশের মানুষ ভালো নেই এবং চরম বিদ্যুৎ ও সার সংকটে কষ্টে থাকলেও সরকার সংসদে কথা বলতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, “দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশ ভালো নেই। বিদ্যুৎ ও সার সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। মানুষ কষ্টে আছে। আমরা জাতীয় সংসদে জনগণের এই কষ্টের কথা বলার চেষ্টা করলেও সরকার আমাদের কথা বলতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি।”
শনিবার সকালে শফিকুর রহমান বগুড়ার ধুনট উপজেলায় স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন। এ ছাড়া সেখানে ফাতেহা পাঠ ও তার রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। কবর জিয়ারত শেষে তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শহীদ আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
জামায়াত আমিরের আগমন উপলক্ষে স্থানীয় মাদ্রাসা মাঠে সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি চলমান বিদ্যুৎ ও সারসংকটের কড়া সমালোচনা করেন এবং বিরোধী দলকে সংসদে কথা বলতে না দেওয়ার অভিযোগ আনেন।
এ সময় সেখানে জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ধুনট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
পরে শফিকুর রহমান দুপুরে বগুড়া জেলা ও মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে যোগ দেন। তার আগে বেলা পৌনে ১১টায় বগুড়া সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। সেখানে দেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি ও অবকাঠামোগত সংকট তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “বিদ্যুৎ ও সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় পোশাক খাতের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।”
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও সারসংকট কাটাতে তারা দেশি-বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সরকারকে বিনামূল্যে সহযোগিতার প্রস্তাব দিলেও সরকার তা গ্রহণ করেনি। বাধ্য হয়ে তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বৈষম্য দূরীকরণ, বেপরোয়া দলীয়করণ বন্ধ, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি প্রতিরোধ, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও সারের সরবরাহ নিশ্চিত করার ছয় দফা দাবিতে আন্দোলন ও লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছেন।
শফিকুর রহমান বগুড়ার সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বগুড়া উত্তরবঙ্গের নাভি ও ঐতিহাসিক সংযোগস্থল হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগসহ বিগত কোনো সরকারই এ অঞ্চলকে তার প্রাপ্য উন্নয়ন দেয়নি।” বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সারাদেশের মানুষের পাশাপাশি বগুড়ার অধিকার আদায়ে সংসদ ও রাজপথে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।