, , ।
অহিদুল হক, বড়াইগ্রাম: নাটোরের বড়াইগ্রামের বাজারগুলোতে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। গত বছরের তুলনায় এবার মণপ্রতি প্রায় এক হাজার টাকা বেশি দামে পাট বিক্রি করছেন কৃষকেরা। এ ছাড়া এবার পাটের ফলন যেমন ভালো হয়েছে, পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় জাগ দেওয়ার জন্য পানির অভাবও হয়নি। সব মিলিয়ে এবার পাটচাষিরা বেশ খুশি।
গত বছরের শুরুতে নতুন পাট বিক্রি হয়েছে ২৭০০-২৯০০ টাকা মণ দরে। এবার কৃষকেরা শুরুতে নতুন পাট বিক্রি করেছেন মণপ্রতি ৩৭০০ থেকে ৩৮০০ টাকায়। তবে বর্তমানে দাম একটু বেড়ে ৪১০০-৪২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এবার প্রতি মণে বাড়তি পাওয়া যাচ্ছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা।
উপজেলার শ্রীরামপুরের কৃষক রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘এবার পাটের ফলনও ভালো হইছে, আবার দামও ভালো পাচ্ছি। নতুন পাট বেচে মণে হাজার বারো শ’ টাকা লাভ পাচ্ছি। এমন ভালো দাম যদি সব সময় থাকে, তাহলে খুবই ভাল হবে।’
রয়না গ্রামের পাটচাষী আবু বকর মন্ডল বলেন, এবার বিঘা প্রতি প্রায় ৬-৭শ’ আঁটি পাটকাঠি পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি শ’ পাটকাঠি কমপক্ষে ৫শ’ টাকা হারে বিক্রি হচ্ছে। পাটের ভাল দামের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রির টাকাটা আমাদের বাড়তি আয়ের যোগান দিচ্ছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় ১০ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে গত মৌসুমের শেষের দিকে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় চাষীরা এবার লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে মোট ১০ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করেছেন। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার প্রতি বিঘায় গড়ে ৮-৯ মণ ফলন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গত বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন কৃষকেরা। কিন্তু এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় তেমন পরিস্থিতি হয়নি।
তবে কৃষকদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার পাটের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বিশেষ করে এবার শ্রমিক প্রতি খরচ বেশি পড়েছে। গত বছর দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া গেছে; কিন্তু এবার পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও ছাড়ানো বাবদ শ্রমিকপ্রতি দৈনিক ৯০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। এতে গত বছরের তুলনায় এবার পাট চাষের খরচ প্রতি মণে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। গত বছর যেখানে প্রতি মণ পাটের উৎপাদন খরচ আড়াই হাজার টাকার কাছাকাছি ছিল এবার তা বেড়ে দুই হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকা হয়েছে।
ভাল ফলনের ফলে উপজেলার লক্ষ্মীকোল বাজারে জমে উঠেছে পাটের হাট। বৃহস্পতিবার এ হাটে পাট কিনতে আসা ব্যবসায়ী ঈমান আলী জানান, তারা এখানকার হাট থেকে পাট কিনে ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, বগুড়া ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মোকামে পাঠান। এ বছর ওই সব মোকামে পাটের চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে দামও ভালো রয়েছে। ফলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন এবং ব্যবসায়ীরাও বেশি দামে পাট কিনতে পারছেন।
তবে আগামী দিনে সরবরাহ আরও বাড়লে পাটের দাম পড়ে যাবে কি না, এমন আশঙ্কায় আছেন কৃষকেরা। বাজিতপুর গ্রামের কৃষক এমদাদুল হকসহ ৭-৮ জন কৃষক জানান, বর্তমান দামে কৃষক খুশি হলেও আগামী দিনগুলোতে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে যাবে কি না, তা নিয়ে চিন্তায় আছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব আল মারুফ বলেন, ‘আবহাওয়া, ফলন ও দাম অনুযায়ী এবার কৃষক পাট চাষে লাভজনক অবস্থায় আছেন। ভাল দাম পেলে চাষীরা আগামীতেও এ ফসল চাষে আগ্রহী হবেন।