সর্বশেষ সংবাদ :

গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা

আসাদুজ্জামান মিঠু, মণ্ডুমালা: রাজশাহীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে গ্রামে গ্রামে মেঠোপথ দিয়ে বয়ে যাওয়া শত শত কিলোমিটার পাকা সড়কগুলোর এক করুণ জরাজীর্ণ দশায় পতিত হয়েছে। দীর্ঘদিন এসব সড়ক সংস্কার না হওয়াই গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পিছিয়ে পড়ছেন মানুষ।
এক সময় রাস্তাগুলোর কারণে এলাকার অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু এখন এসব রাস্তার কারণেই এলাকার উন্নয়ন থেমে যাচ্ছে। মানুষ ঠিকভাবে তাদের গন্তব্যে যেতে পারছেন না। মাঠে উৎপাদিত পণ্য ও পুকুরের চাষ কৃত তাজা মাছ ঠিকভাবে বাজারে নিয়ে আসতেও পারছে না।
গ্রামের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সেই দেড় যুগ আগে পর্যায়ক্রমে বরেন্দ্র অঞ্চলে রাস্তাগুলোর পাকাকরণ করা হয়েছিলো। আর সবশেষ ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে একাবার সেই সড়কগুলো সংস্কারও করা হয়েছিল। এরপর থেকে আর কোনো ধরনের সংঙ্কার নেই। রাস্তাগুলোর বেশিরভাগ চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।
রাস্তায় কার্পেটিং উঠে এমন পর্যায়ে গেছে যে মনে হয় রাস্তাটি কাঁচা আবার অনেক রাস্তার মাঝে এমন গর্ত হয়েছে একটু বৃষ্টি হলে রাস্তা মধ্যে হাটু পানি। আর পুকুর পাশ ঘেঁষে যাওয়া পাকা সড়কগুলো ভেঙ্গে চলে যাচ্ছে পুকুরের পেটে।
কোন কোন এলাকায় এসব ভাঙ্গা সড়কের মাঝের গর্তে ইটের ভাংড়ি ফেলে জোড়াতালি দেয়া হচ্ছে।
শুধু গ্রামের মেঠোপথের রাস্তায় নয়, রাজশাহীর বিভাগীয় শহরের সাথে উপজেলায় যাওয়ার মূল সড়কগুলোর অবস্থা একই। এসব সড়কে মাঝে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। ট্রাক, বাস ভটভটি এসব গর্তে পড়ে সড়কেই ভেঙ্গে পড়ে থাকছে। আবার কোথাও কোথাও যাত্রীরা বাস সিএনজি উল্টে যাওয়ার ভয়ে নেমে পার হচ্ছে।
রাজশাহী জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ি, জেলার ৯টি উপজেলায় মোট সড়কের দৈর্ঘ ৬ হাজার ১০২ দশমিক ৩০ কিলোমিটার। এরমধ্যে পাকা সড়কের দৈর্ঘ ২ হাজার ৩২৫ দশমিক ২০ কিলোমিটার। বাকি সড়কগুলো এখনো কাঁচা।
সম্প্রতি রাজশাহীর তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার কিছু এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে। গ্রামের মেঠোপথে বয়ে যাওয়া শত শত কিলোমিটার পাকা রাস্তাগুলো আর পাকা নেই। কার্পেটিং উঠে গর্তের সৃস্টি হয়েছে।
কোন এলাকায় অটোভ্যান চালকদের উদ্যোগে ভাঙ্গা রাস্তায় ইটের ভাংড়ি ফেলে কোন রকমে চলাচল করতে দেখা গেছে। এদিকে তানোর উপজেলা শাখা জামাতে ইসলামীর পক্ষে উপজেলায় প্রায় ২০ কিলোমিটার ভাঙ্গা সড়কে গর্তে ভাংড়ি ইট ফেলা হয়েছে।
সড়ক গুলো কার্পেটিং এমন ভাবে উঠেছে যানবহন তো দুরের কথা পায়ে হেটেও যাতায়াত করতে কষ্ট পাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
এদিকে তানোর উপজেলা মোড় হতে রাজশাহী শহরের বায়া ২৫ কিলোমিটার প্রধান সড়কটি কার্পেটিং উঠে শত শত খানেখন্দে ভরপুর। বাস সহ সকল যানবহন চলছে হেলেদুলে। যাত্রীরা যানবহনে উঠলেই দোয়া পড়তে পড়তে পার হন।
তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর এলাকার পাঁচন্দর গ্রামের মতিউর রহমান ও হারুন নামের দুইজন কৃষক জানান, এক সময় আর্শিবাদ হলেও এখন রাস্তাগুলো এলাকাবাসীদের কাছে অভিশাপ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে তানোর উপজেলাতে প্রচুর পরিমাণে মাঠে আলু উৎপাদিত হচ্ছে, বেড়েছে তাজা মাছের সরবরহ। এসব পণ্য জেলা শহর ও রাজধানী পাঠাতে শুধু রাস্তার জন্য দ্বিগুন ভাড়া দিয়েও মিলছেনা যানবহন। তাতে আর্থ সামাজিক উন্নয়নে পিছিয়ে পড়ছেন গ্রামের মানুষ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলএজিইডি) তানোর উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার জানান, চলতি বছরেই গ্রামের অধিকাংশ সড়ক সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবণা পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরান্দ ও অনুমতি পেলে একে একে সংস্কার কাজ করা হবে।
গ্রামীণ সড়কগুলোর বিষয়ে একই বক্তব্য দিচ্ছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলএজিইডি) বরেন্দ্র অঞ্চলের একাধিক উপজেলার প্রকৌশলীরা। তারা বলছেন সংস্কারে জন্য প্রোপজল পাঠানো হয়েছে। অনেক রাস্তা সংস্কার কাজ চলছে।


প্রকাশিত: September 2, 2025 | সময়: 4:02 am | সুমন শেখ