, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: অবিশ্বাস্য এক শঙ্কা কাটিয়ে পাকিস্তানকে তৃতীয় টেস্টে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে স্বাগতিকরা।
চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য ছিল ১৩০ রান। আগের দিন পাকিস্তানের অভিষিক্ত রাজাউল্লাহর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচে অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ১৩০ রানের লক্ষ্যে নেমে প্রথম ওভারেই ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। মোহাম্মদ আব্বাসের প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন বেন ডাকেট।
এরপর এমিলিও গে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন। এরপর জো রুটের উইকেটও প্রায় পেয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। মোহাম্মদ আলীর বলে নিজের স্টাম্পে টেনে খেলেন রুট। তবে বলটি নো বল হওয়ায় বেঁচে যান তিনি। তখন রুটের রান ছিল ২৩। ফলে ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর সম্ভাবনা থেকে রক্ষা পায় ইংল্যান্ড।
এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি রুট ও জর্ডান কক্স। আবারও দারুণ ব্যাটিং করেছেন কক্স। ৫৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডিসেম্বরে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টের একাদশে জায়গা পাওয়ার দাবি আরও জোরালো করেছেন এসেক্সের এই ব্যাটার।
রুট ও কক্স মিলে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ১২৮ রানের জুটি। রুট ৬২ রানে অপরাজিত থেকে মধ্যাহ্নভোজের ঠিক আগে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ে অধিনায়ক হিসেবে রুটের প্রত্যাবর্তনও সফল হলো। বেন স্টোকস জুনে অবসর নেওয়ার পর আবার ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নেন রুট।
একই সঙ্গে ইতিহাসের অন্যতম অস্থির গ্রীষ্মের শেষটাও ইতিবাচকভাবে করল ইংল্যান্ড। মঙ্গলবার সাউদাম্পটনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজ দিয়ে নতুন পর্ব শুরু করবে তারা। সেখানে আবার দায়িত্ব নেবেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। কোচিং স্টাফে থাকছেন কেভিন পিটারসেনও।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টেস্টের তৃতীয় দিন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের দাপুটে পারফরম্যান্স দেখে প্রায় ভুলেই যাওয়া সম্ভব ছিল, মাত্র দুই মাস আগেও তাদের অধিনায়ক ও কোচ দুজনই ছিলেন না। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ইংল্যান্ডের অনেক ইতিবাচক দিক থাকলেও সফরকারীদের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে তাদের সামর্থ্য পুরোপুরি পরীক্ষা হয়নি বলেই মনে হচ্ছিল।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ০ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ইংল্যান্ড দুই দিনের মধ্যেই ম্যাচ জিতে যেতে পারত। এরপর অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। সফরকারীরা লড়াইয়ে ফেরার পর ইংল্যান্ডকেও চাপ সামলাতে হয়েছে। রুটের দল শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সামলালেও পুরো প্রক্রিয়াটি খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না।
বিশেষ করে শুক্রবার রাযাউল্লাহর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সামনে ইংল্যান্ডের বোলিং কৌশল ভেঙে পড়েছিল। শনিবার সকালে ব্যাটিংয়েও দেখা দেয় অস্বস্তি। পাকিস্তানের লক্ষ্য যদি আরও ১০০ রান বেশি হতো, তাহলে পরিস্থিতি ইংল্যান্ডের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারত। প্রথম দিন পাকিস্তানের ১৩৩ রানে অলআউট হওয়াটা তাই এখন আরও বেশি আফসোসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত চাপের সময়টা পার করে জয় তুলে নেওয়ার কৃতিত্ব ইংল্যান্ডেরই। পাকিস্তানকে লড়াইয়ে ফিরতে আড়াই ম্যাচের বেশি সময় লেগে গেলেও টানা তিন টেস্ট জিতেছে ইংল্যান্ড। এর আগে ১০ টেস্টে তাদের জয় ছিল মাত্র দুটি।
সামনে অবশ্য আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ডের জন্য। শীতকালীন সফরে দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে তারা। নতুন প্রধান কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাজ্যে পৌঁছাবেন। তার সামনে থাকবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ।