, , ।
আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (ম্যানেজিং কমিটি) গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটার অভিযোগ উঠেছিল বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে। এর কয়েক দুই মাস পরই বাড়ি ফেরার পথে ওই বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাত ও লাঠিপেটা করার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় হারুনুর রশিদের করা মামলায় রোয়াড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে পৌরশহরের কলেজপাড়া মহল্লার নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার সকালে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
হারুনুর রশিদ রুকিন্দিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং উপজেলার রোয়াড় গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে করে আক্কেলপুর বাজার থেকে নিজ বাড়ি রোয়াড় গ্রামে ফিরছিলেন হারুনুর রশিদ। পথে রোয়াড়-রাজকান্দা সড়কের রাজকান্দা মোড়ে পৌঁছালে সাত থেকে আটজন তাঁর পথরোধ করে। একপর্যায়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত ও লাঠিপেটা করা হয়। এতে তিনি সড়কের ওপর পড়ে যান। হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে হারুনুর রশিদের স্ত্রী শামীমা আক্তারের মাধ্যমে থানায় এজাহার পাঠানো হয়। পরে পুলিশ সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। মামলায় প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান, তাঁর স্ত্রী সোনামুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শামীমা নাসরিন, তাঁর বড় ভাই দুলাল হোসেন ও দারাজ উদ্দিন এবং চাচাতো ভাই গাজীউলকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে হারুনুর রশিদ অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান ধারালো হাসুয়া দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করেন। এতে তাঁর বাঁ হাতের বাহুতে কাটা জখম হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে একজন তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
জুতাপেটার অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের আগের মামলা: রোয়াড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানের সঙ্গে বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদের বিরোধের সূত্রপাত বলে জানা গেছে।
প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানের অভিযোগ, গত ২১ জুন হারুনুর রশিদ বিদ্যালয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বাক্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে হারুনুর রশিদ পায়ের জুতা খুলে তাঁকে পেটান। এ ঘটনায় তিনি থানায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে আদালতে মামলা করেন তিনি। ওই মামলায় হারুনুর রশিদ ছাড়াও শাহনেওয়াজ, আতিকুজ্জামান মুন ও আতিয়ার রহমানকে আসামি করা হয়।
শনিবার থানায় সাংবাদিকদের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২১ জুন হারুনুর রশিদ আমাকে জুতাপেটা করেছিলেন। ওই ঘটনায় আমি আদালতে মামলা করেছি। মামলা তুলে নিতে হারুনুর রশিদ আমাকে চাপ ও চাকরি খাওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। এতে ব্যর্থ হয়ে এখন হামলা ও ছুরিকাঘাতের সাজানো নাটক করে আমাদের ফাঁসানো হয়েছে। সত্য উন্মোচিত হবেই।’
তবে প্রধান শিক্ষকের এ অভিযোগ অস্বীকার করে হারুনুর রশিদ বলেন, ‘বাড়ি ফেরার পথে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সাত থেকে আটজন পথরোধ করে ছুরিকাঘাত করে। পরে মাথার নিচে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে আমি সড়কের ওপর পড়ে যাই। হামলাকারীদের মধ্যে চারজনকে আমি চিনতে পেরেছি। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানের সঙ্গে আমার বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই তাঁর ও তাঁর দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।’
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, ‘হারুনুর রশিদের করা মামলায় প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’