, , ।
রাবি প্রতিনিধি: বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত স্নাতক ও স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শনিবার সকাল ১০টায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (বিমক) চেয়ারম্যান প্রফেসর মামুন আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ। রাবি উপাচার্য প্রফেসর ফরিদুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে নবীনবরণ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য-সচিব ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর এ এইচ এম খুরশীদ আলম স্বাগত বক্তৃতা দেন। সেখানে অন্যদের মধ্যে প্রক্টর প্রফেসর মো. মাহবুবর রহমানও বক্তব্য রাখেন।
উপাচার্য ও প্রধান অতিথি ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের অধিকারী শিক্ষার্থী সিয়াম আলী (আইন বিভাগ), শুকরিয়া (ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ), মো. আদিব আহমেদ হৃদয় (ফার্মেসী বিভাগ), সামিয়া তাসরিন শ্রেয়া (আইবিএ), চরণ বিকাশ ত্রিপুরা (হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যব্যবস্থা বিভাগ) ও মো. সাব্বির হোসেন অন্তর (মনোবিজ্ঞান বিভাগ)-এর হাতে ‘নবীনবরণ কিট’ তুলে দিয়ে তাদের বরণ করে নেন। নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষে সিয়াম আলী (আইন বিভাগ), শুকরিয়া (ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ) ও মো. আদিব আহমেদ হৃদয় (ফার্মেসী বিভাগ) তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের অধিকারী আফলাতুন নাহার অ্যানি চৌধুরীর (ফার্মেসী বিভাগ) পিতা মো. আনিসুর রহমান চৌধুরী তার অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে রাবি জনসংযোগ দপ্তরের নির্দেশনায় তৈরি একটি পরিচিতিমূলক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিমক চেয়ারম্যান তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষায়, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অত্যন্ত প্রতিযোগিতার বিষয়। এখানে যারা ভর্তি হয়েছে তারা মেধাবীদের মধ্যে মেধাবী। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে তাদের মেধার উৎকর্ষ প্রদর্শন ও স্বপ্ন পূরণের যে অভিযাত্রা শুরু হলো আগামীতেও তা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্যে মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ। শিক্ষার্থীরা তাদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে শুভবোধেরও বিকাশ ঘটাবে, তারা হবে আগামী দিনের সমৃদ্ধ, উন্নত বাংলাদেশ গড়ার কারিগর রূপে নিজদের গড়ে তুলতে সচেষ্ট থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জাতি এই শিক্ষার্থীদের মধ্যেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে দেখতে চায়।
অনুষ্ঠানের সভাপতি উপাচার্য নবীন শিক্ষার্থীদের রাবিতে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আজ থেকে তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। এর একজন অংশীদার হিসেবে তারা রাবিকে ধারণ করবে, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার দায়িত্ব তাদের। উচ্চশিক্ষার এই অঙ্গণ হচ্ছে স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার সুতিকাগার। তবে এই স্বাধীনতা অবারিত নয়। শিক্ষার্থীরা দায়িত্বশীলতার সাথে ইতিবাচকভাবে তাদের কাজের মধ্যে, আচার-আচরণের মধ্যে দায়িত্বশীলতার সাথে প্রতিফলন ঘটাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার এক আদর্শ অঙ্গণ। এখানে আছে আধুনিক ক্লাস রুম ও গ্রন্থাগার। আরো আছে গবেষণার। এসবের সদ্ব্যবহার করে তোমাদের নিজেদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। এজন্য তোমাদের প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে। জীবনে উন্নতির জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার মাধ্যমেই জাতিকে উন্নত করতে হবে।
অপর বিশেষ অতিথি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেশন জট শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনাকে অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও আন্তর্জাতিক র্যাংকিং ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। এখানে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নসহ আরও কিছু বিষয়ে পরিকল্পনা নিয়েও আমরা কাজ করছি। শিক্ষার্থীরা আগামীতে এসবের সুফল লক্ষ্য করবে।
শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার টিএসসিসি’র ভারপ্রাপ্ত পরিচালক প্রফেসর মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, অনুষদ অধিকর্তা, সিন্ডিকেট সদস্য, হল প্রাধ্যক্ষ, বিভাগীয় সভাপতি, বিশিষ্ট শিক্ষক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।