কুয়ালালামপুরে যৌন চক্রের ২৩ জন আটক, লক্ষ্য ছিল ‘বাংলাদেশি গ্রাহকরা’

সানশাইন ডেস্ক: মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে যৌন পেশার সঙ্গে জড়িত নারীসহ ২৩ বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। মূলত ‘বাংলাদেশি গ্রাহকদের’ লক্ষ্য করে একটি চক্র এই ব্যবসা চালাত বলে তথ্য দিয়েছে তারা।
মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে বাংলাদেশি গ্রাহকদের লক্ষ্য করে এই যৌন পেশা চলছিল। এর জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত আদায় করা হত। এ ঘটনায় দুই স্থান থেকে নারীসহ ২৩ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিরেক্টর জেনারেল জাকারিয়া শাবান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে কুয়ালালামপুরের জালান কুচাই লামার একটি আবাসিক ভবন এবং জালান গেলুগোরের কাছে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে চক্রটিকে আটক করা হয়। সাধারণ মানুষের গোপন তথ্য এবং দুই সপ্তাহের টানা গোয়েন্দা নজরদারির পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অভিযানকালে যৌন কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২৩ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৩ জন পুরুষ রয়েছে; যারা মিয়ানমারের নাগরিক। এছাড়া আটককৃত নারীদের মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশি, ১৪ জন ইন্দোনেশীয়, ২ জন ভিয়েতনামী এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
জাকারিয়া শাবান বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেখা গেছে, আটককৃত কোনো বিদেশি নাগরিকের কাছেই মালয়েশিয়ায় অবস্থানের বৈধ নথি ছিল না। যে বাসা দুটি থেকে তাদের আটক করা হয়, সেগুলোর বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হত গ্রাহক আকৃষ্ট করার জন্য। বিশেষ করে ক্লাং উপত্যকায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্যে।
“এক বাংলাদেশি পুরুষ এবং থাইল্যান্ডের এক নারী এই চক্রের মূল হোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তারা শ্রমিকদের পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে তাদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতেন। একজন মালয়েশীয় পুরুষও তাদের সঙ্গে কাজ করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার দায়িত্ব ছিল ব্যবসার জায়গাটি নিয়ন্ত্রণ ও পাহারা দেওয়া।”
ইমিগ্রেশন ডিরেক্টর বলছেন, চক্রটি গত দুই মাস ধরে সক্রিয় ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে ৪টি বাংলাদেশি, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার ১টি করে পাসপোর্টসহ বেশ কিছু মোবাইল ফোন, ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ থেকে উপার্জিত নগদ ১ হাজার ২১৫ রিঙ্গিত বাজেয়াপ্ত করেছেন। জাকারিয়া জানিয়েছেন, আটককৃতদের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য ইমিগ্রেশন অফিসে নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি যাঁরা
‎সানশাইন ডেস্ক: দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ছয়জন সংসদ সদস্য। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন।
বেলা ২টায় সংসদকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর ভোট গ্রহণ শুরু হয়। স্পিকারের সামনের নির্ধারিত স্থানে নির্বাচন পরিচালনা করেন সিইসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোট না দেওয়া ছয় সংসদ সদস্য হলেন-বিএনপির মির্জা আব্বাস, ওসমান ফারুক ও মোস্তফা কামাল পাশা; জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম; খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
ভোট গণনা শেষে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন। এতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী দল মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
জাতীয় সংসদে মোট আসন ৩৫০টি, যার মধ্যে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন। তবে আদালতের নির্দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল এখনো ঘোষণা না হওয়ায় বর্তমানে সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার সংখ্যা ৩৪৯।


প্রকাশিত: August 21, 2026 | সময়: 4:46 am | সুমন শেখ

আরও খবর