, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপের ফাইনালে বল হাতে রীতিমতো তাণ্ডব চালালেন পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। পাকিস্তান গোল্ডের হয়ে পাকিস্তান গ্রিনসের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ ৭ উইকেট নিয়ে দলকে ১০১ রানের বড় জয় এনে দিয়েছেন তিনি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে।
ফাইনালে আগে ব্যাট করে সাদ খানের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৩৪০ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তান গোল্ড। জবাবে শুরুটা ভালোই করেছিল গ্রিনস। ফখর জামান করেন ৩১ রান। এরপর সাদ বেগ ও ওমায়ের ইউসুফের ৯০ রানের জুটিতে ২২তম ওভারে গ্রিনসের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৭/২।
সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শাহিন। ইনিংসের শুরুতে চার ওভারের স্পেলে ২৫ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি তিনি। তবে ২৫তম ওভারে দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে মাত্র দুই ওভারে ৪ রান দিয়ে তুলে নেন তিন উইকেট। শাহিনের সেই বিধ্বংসী স্পেলে ১৪৭/২ থেকে ১৬৭/৬ হয়ে যায় গ্রিনস। এরপর ৩৪তম ওভারে তৃতীয় স্পেলে ফেরেন পাকিস্তানের ওয়ানডে অধিনায়ক। মাত্র ২.৩ ওভারের স্পেলে ৭ রান দিয়ে নেন আরও চার উইকেট। এর মধ্যেই আসে তার হ্যাটট্রিক।
৩৮তম ওভারে মেহরান মুমতাজ, সালমান মির্জা ও মোহাম্মদ হাসনাইনকে পরপর ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন শাহিন। তার হ্যাটট্রিকের সঙ্গে সঙ্গেই গ্রিনসের ইনিংসও কার্যত শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২৩৯ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।
গ্রিনসের শেষ সাত উইকেটই তুলে নেন শাহিন। তার বোলিং ফিগার ছিল ৮.৩-০-৩৬-৭। চার ইনিংসে ১৩ উইকেট নিয়ে পুরো টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও হয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফাহিম আশরাফ ও মোহাম্মদ ওয়াসিমের চেয়ে পাঁচ উইকেট বেশি তার।
তবে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে শাহিনের সাম্প্রতিক সময়টা খুব একটা স্বস্তির নয়। চলতি বছরের জুনে পাকিস্তানের লাল বলের প্রস্তুতি ক্যাম্পে জায়গা পাননি তিনি। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দলেও জায়গা হয়নি এই পেসারের।
বছরের শুরুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের ২-০ ব্যবধানে হারা টেস্ট সিরিজেও শাহিনের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বেশিরভাগ সময় ঘণ্টায় ১২০-এর শেষভাগ থেকে ১৩০-এর শুরুর দিকে বোলিং করতে দেখা যায় তাকে। সাবেক পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমিরও শাহিনের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের অবনতির পেছনে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০২৩ সালে হাঁটুর চোট থেকে ফেরার পর থেকে শাহিন ১৬ ইনিংসে ২৭টি টেস্ট উইকেট নিয়েছেন, গড় ৪০.১১।