, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: গত বুধবার রাতে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) এবং অ্যাস্টন ভিলার মধ্যকার উয়েফা সুপার কাপ ফাইনাল শেষে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ হওয়া সোমালি রেফারি ওমর আরতান এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন।
৩৪ বছর বয়সী এই রেফারিকে বিশ্বকাপ থেকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়ার পর প্রথম অ-ইউরোপীয় হিসেবে সুপার কাপের ম্যাচ পরিচালনার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। আফ্রিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে তিনি বিশ্বকাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও সীমান্ত থেকেই তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এক বিবৃতিতে দাবি করেছিল যে, তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘আপত্তিকর তথ্য’ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও ছিল। বৈধ ভিসা এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। স্বাগতিক দেশে প্রবেশাধিকার না থাকায় বাধ্য হয়েই ফিফা তাকে বিশ্বকাপের তালিকা থেকে বাদ দেয়।
আরতান পরবর্তীতে প্রকাশ করেন যে, তাকে অভিবাসন দপ্তরে ১১ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল, কিন্তু কেন তাকে নিষিদ্ধ করা হলো তার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরতান বলেন, ‘আমি অত্যন্ত হতাশ। আমার কাছে সব বৈধ কাগজপত্র এবং ভিসা ছিল। আমি কেবল একজন রেফারি যে তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্নপূরণ করতে বিশ্বকাপে আসতে চেয়েছিল।’
উয়েফা প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার সেফেরিন পিএসজি ও অ্যাস্টন ভিলা ম্যাচে আরতানের নিয়োগের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘ওমর আরতান একজন তরুণ কিন্তু অত্যন্ত অভিজ্ঞ রেফারি, যিনি আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। ফুটবল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। উয়েফা তার মেধা ও পেশাদারিত্বের প্রতি সম্মান জানাতেই তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে।’
উয়েফার ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরতান এই সুযোগের জন্য গর্ববোধ করেন। তিনি স্বীকার করেন, ‘এটি ছিল অত্যন্ত কঠিন একটি সময়। অনেকে আমার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন। কারণ যখন কেউ বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে কোনো অর্জনের দোরগোড়ায় পৌঁছায় এবং শেষ মুহূর্তে বাধা পায়, তখন সেটি মেনে নেওয়া খুব চ্যালেঞ্জিং। তবে বিশ্বজুড়ে আমি যে সমর্থন পেয়েছি, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
উনাই এমেরির অ্যাস্টন ভিলাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে পিএসজি শিরোপা জেতার পর আরতান তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মাত্র পাঁচটি শব্দের একটি বার্তার মাধ্যমে। তিনি ম্যাচের বলের ওপর উয়েফার উদ্দেশ্যে একটি চিরকুট লেখেন, যেখানে লেখা ছিল, ‘এটাই ছিল আমার বিশ্বকাপ’ (দিস ওয়াজ মাই ওয়ার্ল্ড কাপ)।
ম্যাচ বলের ওপর উয়েফাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও অনেক কিছু লিখলেও এই পাঁচটি শব্দই সবার নজর কেড়েছে। আরতানকে আসল বিশ্বকাপে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি, কিন্তু ইউরোপীয় ফুটবলের এই বড় মঞ্চে বাঁশি বাজানোর সুযোগ পেয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, মাঠের লড়াইয়েই তার সার্থকতা।