, , ।
আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গণিপুর দাখিল মাদ্রাসায় টানা দুই বছর দাখিল পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। ২০২৫ সালের মতো ২০২৬ সালেও প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও পাঠদানের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার সকাল ১০টায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়। ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এবার গণিপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এর আগে ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষায়ও একই চিত্র দেখা যায়। ওই বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। অর্থাৎ টানা দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটির ৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেউই দাখিলের গণ্ডি পেরোতে পারেনি।
এদিকে, আক্কেলপুর উপজেলায় এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ফলও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ১০টি মাদ্রাসা থেকে মোট ২০৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৫৫ জন। সে হিসাবে পাসের হার ২৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। অর্থাৎ ১৪৮ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
তবে উপজেলার অন্যান্য মাদ্রাসার তুলনায় গণিপুর দাখিল মাদ্রাসার ফলাফল সবচেয়ে হতাশাজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। টানা দুই বছর কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, পাঠদানের পরিবেশ ও একাডেমিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে টানা দুই বছর কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা স্বাভাবিক বিষয় নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। শুধু পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দায় এড়িয়ে গেলে চলবে না, কেন শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে, সেটিও খুঁজে বের করতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মাদ্রাসার এক অভিভাবক বলেন, মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সুপারের স্বেচ্ছাচারিতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও পড়াশোনার বিষয়ে যথাযথ নজরদারি করা হয় না। অতীতেও প্রতিষ্ঠানটির সুপার নিজের ইচ্ছামতো নিয়োগ-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থেকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের ফলাফল ভালো হওয়ার সুযোগ কোথায়? টানা দুই বছর সবাই ফেল করেছে, এখনও যদি কর্তৃপক্ষের টনক না নড়ে, তাহলে ভবিষ্যতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হবে।
এ বিষয়ে গণিপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এখন ভীষণ ব্যস্ত আছি। একটি মিটিংয়ে যাব। এ বিষয়ে কথা বলতে পারব না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল হাসান বলেন, টানা দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ফলাফল কেন এমন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা দুই বছর কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেব।