সর্বশেষ সংবাদ :

রামেক হাসপাতাল এলাকা ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স জোন’ ঘোষণার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) সংলগ্ন ফুটপাত ও প্রধান সড়ক দখলমুক্ত করা, যানবাহন পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং হাসপাতালের চারপাশের ৪০০ মিটার এলাকাকে স্থায়ী ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স জোন’ ঘোষণার দাবিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে উন্নয়ন গবেষণাধর্মী যুব সংগঠন ‘ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস)’ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়’।
সোমবার সকালে নগর ভবনে রাসিক প্রশাসকের কার্যালয়ে সংগঠন দুটির প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। স্মারকলিপিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন ইয়্যাসের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, লেখক ও উন্নয়ন-অধিকারকর্মী শামীউল আলীম শাওন এবং ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়ের সাধারণ সম্পাদক মো. রবিন শেখ। স্মারকলিপিতে বলা হয়, উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম কেন্দ্র রামেক হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৩ হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু হাসপাতালের প্রধান ফটক, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ (আউটডোর) গেট এবং লক্ষ্মীপুর মোড় থেকে ঘোষপাড়া মোড় ও সিঅ্যান্ডবি মোড়-গ্রেটার রোড সংযোগ সড়কের ফুটপাত ও মূল সড়ক অবৈধ টং দোকান, খাবারের হোটেল এবং অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন পার্কিংয়ের দখলে থাকায় অ্যাম্বুলেন্স চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে জরুরি রোগীদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকে প্রায়ই ১০ থেকে ২৫ মিনিট পর্যন্ত যানজটে আটকে থাকতে হয়, যা রোগীর জীবনরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘গোল্ডেন আওয়ার’ নষ্ট করছে।
স্মারকলিপিতে সংবিধানের ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদ, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮, হাইকোর্টের রায় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ডের আলোকে হাসপাতাল-সংলগ্ন এলাকা দখলমুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। এতে পাঁচটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ গেটসহ আশপাশের ৪০০ মিটার এলাকাকে স্থায়ী ‘নো-হকার, নো-পার্কিং ইমার্জেন্সি রেসপন্স জোন’ ঘোষণা, রাসিক, জেলা প্রশাসন ও আরএমপি ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা, জরুরি বিভাগের সামনে রোগীবাহী যানবাহনের জন্য নির্ধারিত ‘ড্রপ-অফ জোন’ নিশ্চিত করা, পুনরায় দখল ঠেকাতে বোলার্ড, রেইলিং ও সিসিটিভি নজরদারি স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে নিয়মিত টাস্কফোর্স গঠন করে দরিদ্র হকারদের বিকল্প স্থানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
স্মারকলিপি প্রদানকালে শামীউল আলীম শাওন বলেন, হাসপাতালের বাইরের সড়কে সমন্বয়হীনতার কারণে প্রতিনিয়ত অ্যাম্বুলেন্স যানজটে আটকে পড়ছে। এ সমস্যা সমাধানে সিটি করপোরেশনকে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান সমন্বয়ের নেতৃত্ব দিতে হবে। রবিন শেখ বলেন, একটি আধুনিক ও সুশৃঙ্খল নগরীর প্রধান সরকারি হাসপাতালের প্রবেশমুখে এমন বিশৃঙ্খলা গ্রহণযোগ্য নয়। জরুরি চিকিৎসাসেবার পথ বাধামুক্ত রাখা নাগরিক অধিকারের অংশ। স্মারকলিপির অনুলিপি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং রামেক হাসপাতালের পরিচালকের কাছেও দেওয়া হয়েছে।


প্রকাশিত: August 4, 2026 | সময়: 4:09 am | সুমন শেখ