সর্বশেষ সংবাদ :

সাবেদুলের মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনের দাবিতে গোদাগাড়ীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার গোদাগাড়ী:

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বিজয়নগর কলোনির নির্মাণশ্রমিক সাবেদুল ইসলামের (৩৪) মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তার ‘খুনিদের’ বিচার চেয়ে রোববার সকালে বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধনও করেছেন তারা।

‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে সকালে রাজাবাড়ীহাট এলাকায় এই বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এলাকার সমাজসেবক আব্দুর রউফ। কর্মসূচিতে ফেস্টুন হাতে প্রায় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

 

গত ২৪ জুলাই দিবাগত মধ্যরাতে রাজাবাড়ীহাটে শেষবারের মতো দেখা যায় সাবেদুল ইসলামকে। ২৬ জুলাই ভোরে একটি পুকুরে তার ভাসমান মরদেহ পাওয়া যায়। স্বজনদের দাবি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, চোখে ঢোকানো হয়েছিল পিন।

 

এছাড়া তার জিহ্বা কাটা হয়েছিল, শরীরে ঢালা হয়েছিল গরম পানি। তবে এ নিয়ে হত্যা মামলা হয়নি। পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। তারা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলছেন। খুনিদের শনাক্ত করার দাবি জানাচ্ছেন তারা।

মানববন্ধনে রাজাবাড়ী-দরগাপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ বলেন, অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা হয়েছে। সেদিন দাঁড়িয়ে দেখলাম সেই লাশের গায়ে গরম পানি নিক্ষেপ করা হয়েছে। বড় বড় ফোসকা পড়েছে। প্রেমতলী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশকে বলি- এটা যেখানকারই লাশ হোক। একে কিন্তু নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। লাশের গায়ে গরম পানি দেওয়া হয়েছিল। সবাইকে বলেছি আমি এটা হত্যাকান্ড আপনারা একটু দেখেন। কিন্তু পরে শুনি যে ওসি সাহেব বলেছেন সাধারণ মৃত্যু। তিনি কোন জায়গায় তদন্ত করে বললেন আমরা জানি না।’

নিহত সাবেদুলের স্ত্রী আদরী খাতুন মানববন্ধনে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘জিহ্বা কাটা হয়েছে, দাঁত ভাঙা হয়েছে, তার চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। গরম পানিও ঢালা হয়েছে। আমার স্বামীকে যারা নির্মমভাবে খুন করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’ কিছুটা থেমে সাড়ে ৪ বছরের মেয়েকে দেখিয়ে ডুকরে কাঁদতে থাকেন আদরা। বলেন, ‘আমি ছোট মেয়েটাকে নিয়ে এখন কোথায় যাব? আমরা বাচ্চাকে যে এতিম করেছে তার আমি বিচার চাই।’

 

সাবেদুলের মা আবেদা বেগম বলেন, ‘শেষবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ছেলে আমাকে বলেছিল তাকে মেরে পুঁতে দিবে। আমি জানতে চেয়েছিলাম কে পুঁতে দেবে? সে বলেছিল কয়জন তাকে হুমকি দিচ্ছে যে যেখানে পাবে সেখানে মেরে পুঁতে দেবে। তারাই মেরেছে।’

 

বিজয়নগর কলোনির বাসিন্দা শিল্পী বেগম বলেন, ‘আমরা সত্যিকারের বিচার চাই। গরীব মানুষ বলে কি তারা আজ বিচার পাবে না? আমরা গরিব পাড়ায় থাকি বলে কি বিচার পাব না? তার মা চেয়ে-চিন্তে খায়। আজ আটদিন হয়ে গেল তার বিচার নাই। কাল আমার ছেলেকেও তো এভাবে হত্যা করা হতে পারে। তখন কি আমরা বিচার পাব না? আমরা সত্য বিচার চাই।’

 

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা লাশ দেখেছি। ওর দাঁত নাই, চোখ নাই, জিহ্বা কাটা, শরীরে অনেক ফোসকা। মাথায় আঘাতের দাগ ছিল। এত কিছু হত্যা না হলে হতো না। সাবেদুলকে মেরে পুকুরে ভাসিয়ে দিয়েছিল। এক সপ্তাহ হয়ে গেল প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কারা এই হত্যা করেছে পুলিশকেই তদন্ত করে বের করতে হবে।’

 

মানববন্ধনে বক্তারা কারও নাম উল্লেখ না করে বলেন, যাদের সন্দেহ করা হচ্ছে তারা এলাকার প্রভাবশালী। তারা দলীয় ছত্রছায়ায় আছে। এরা পুলিশেরও সোর্স। তাই পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে তাদের অভিযোগ। বক্তারা বলেন, সাবেদুলকে মারার আগে তারা তাকে সনির দোকানে চা খাইয়েছে। তারপর আরিফের দোকানে চা খাইয়েছে। এভাবে সাথে সাথে রেখে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

 

সাবেদুলের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পরও বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তেমন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সারাক্ষণই খোঁজখবর নিচ্ছে। আমরাও অনুসন্ধান করছি। আমরা লাশের ময়নাতদন্ত করেছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সাইফুল ইসলাম/শামি


প্রকাশিত: August 2, 2026 | সময়: 5:50 pm | Daily Sunshine

আরও খবর