সর্বশেষ সংবাদ :

স্বচ্ছতার নজির রাখলেন দুই ইউএনও: কাজের অব্যায়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স ও আকতার হোসেন বকুল: রাজশাহীর বাগমারা এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ সাশ্রয় করে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
বাগমারায়: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় দুটি খাল খনন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের সাশ্রয় নিশ্চিত করে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৯৮ হাজার ৭৩২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঝিকরা ও শুভডাঙ্গা ইউনিয়নে মোট ১৪ কিলোমিটার খাল খননের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এর মধ্যে ঝিকরা ইউনিয়নের ৭ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্প থেকে ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ টাকা অব্যয়িত থাকায় তা সরকারি কোষাগারে ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে, শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের ৭ কিলোমিটার খালের মধ্যে প্রায় ৩ কিলোমিটার খননের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্পে সাশ্রয় হওয়া ১ কোটি ৩০ লাখ ২৩ হাজার ৯৩২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নূর এ সেফা বলেন, বাগমারায় দুটি খাল খনন অন্তে অব্যায়িত ১ কোটি ৪৮ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭৩২ টাকা যথাযত প্রক্রিয়ায় সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইউএনও সেলিম আহমেদ প্রায় একই মত ব্যক্ত করে বলেন, প্রকল্পে গিয়ে আপনারাও দেখেছেন কাজের মান সম্পর্কে আপনারাও অবহিত। যথাযত তত্বাবধান ও ব্যয় নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে এখানে কাজের মান ঠিক রেখে অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
পাঁচবিবি: জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা ও কুসুম্বা ইউনিয়নে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত প্রায় ১১লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন। সরকারি প্রকল্পে অব্যয়িত অর্থ নয়-ছয় না করে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় প্রশংসা কুড়িয়েছেন ইউএনও।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নের সোনাপুর খোদ্দমশুল ঝিনাইগাড়ী সোনামুন মাষ্টারের জমি হতে জীবনপুর ব্রীজ অভিমুখে ১.৮ মিটার দৈর্ঘ্য এবং কুসুম্বা ইউনিয়নের ঢাকার পাড়া আকরামের বাড়ি থেকে কুসুম্বা সুইচগেট অভিমুখে ৬’শ মিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্পের বরাদ্দ দেয় সরকার। ঝিনাইগাড়ি খালের বরাদ্দ ৩১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা দেওয়া হলেও ব্যয় হয় ২১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৮৫ টাকা। অপরদিকে ঢাকার পাড়ার কুসুম্বা সুইচগেট খালের জন্য ৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ব্যয় হয় ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫০ টাকা মাত্র। অব্যয়িত উভয় প্রকল্পের মোট ১০ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৫ টাকা সরকারি বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেন ইউএনও মহদোয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন বলেন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষকদের দুর্ভোগ কমানোই ছিল এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। খাল পুনঃখননে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে নির্দেশনা মোতাবেক খনন কাজ সম্পন্ন করে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ অন্তে অব্যয়িত প্রায় ১১ লাখ টাকা বিধি অনুযায়ী সরকারের কোষাগারে ফেরত প্রদান করা হয়েছে।


প্রকাশিত: July 31, 2026 | সময়: 4:21 am | সুমন শেখ

আরও খবর