সর্বশেষ সংবাদ :

দেড় লাখ গরুর জন্য টিকার বরাদ্দ সাড়ে তিন’শ ডোজ : লালপুরে লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত ২০ হাজার গরু, দুই মাসে মারা গেছে অর্ধশত

মোজাম্মেল হক, লালপুর: যথা সময়ে টিকা না দেওয়ায় নাটোরের লালপুর উপজেলার প্রায় ২০ হাজার গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত রপ। গত দুইমাসে এই রোগে প্রায় অর্ধশত গরুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিনই লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা বাড়ছে। খামারীদের অসচেনতা ও লাম্পি স্কিন রোগের টিকার পর্যাপ্ত সরকারী বরাদ্দ না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানাগেছে।
উপজেলায় দেড় লাখ গরু পালন হলেও সরকারী টিকার বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩৫০ ডোজ। প্রাণী সম্পদ অফিসের দাবী সরকারী বরাদ্দের ৩৫০ ডোজ ছাড়াও বেসরকারী ভাবে প্রায় ১৮ হাজার পশুকে টিকার আওতায় আনা গেছে। বাকি গরুর খুদ্র খামারীদের ল্যাম্পি স্ক্যান রোগের টিকা প্রয়োগে নানা ভাবে উদ্বুদ্ধ করেও কোন ফল হয়নি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০২১ সালে সর্বপ্রথম লালপুরে এই রোগ সংক্রমণ হয়েছে। উপজেলায় মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪২২টি গরুর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার গরু ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে। গত মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন, যেখানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার গরু আক্রান্ত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাত্র ৩৫০ ডোজ টিকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাসেই শেষ হয়ে গেছে। সে সময় গরু পালনকারীদের বাজারে প্রচলিত যে কোন কোম্পানীর টিকা প্রদান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তারা অনেকেই এতে কর্ণপাত করেননি। পরে এলাকায় রোগ ছড়িয়ে পড়লে অনেকে টিকা দিয়ে সুফল পাচ্ছেন না। নিয়মানুযায়ী টিকা প্রদানের ১৫ দিন পর থেকে টিকার কার্যকরীতা শুরু হয়। পাশে আক্রান্ত গরু থাকলে টিকার ডোজ দেওয়া হলেও তা কার্যকর নাও হতে পারে। তবে স্থানীয় পশু চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী এ রোগে ২ মাসে প্রায় অর্ধশত গরু মারা গেছে।
আড়বাব গ্রামের জিল্লুর রহমান, আবুল হোসেন সহ নওশারা সুলতানপুরের বেশ কয়েকজন খামারী জানান, গরুর শরীরে জ্বর, গুটি, ক্ষত, খাবারে অরুচি ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর কোন ওষুধেই কাজ হচ্ছেনা। অধিকাংশ খামারী হোমিও চিকিৎসা, ধূপ, ন্যাপথলিনের বড়ি ও নিমপাতা ব্যবহার করে চিকিৎসার চেষ্টা করছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ জানান, গবাদি পশুর ল্যাম্পি স্কিন রোগ ছড়ায় মে-জুন মাসের দিকে। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের মধ্যে টিকা দেওয়া হলে গবাদি পশুর এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। আমরা উঠান বৈঠক, লিপলেট বিতরণ সহ নানাভাবে খামারীদের সচেতন করার চেষ্টা করেছি। অনেকেই গুরুত্ব দেননি।
তিনি আক্রান্ত গবাদিপশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা রাখা, খামারে নিয়মিত জীবাণুনাশক ব্যবহার, মশা-মাছির বিস্তার রোধের পরামর্শ দেন। তিনি আরো জানান, নতুন ভাবে জুলাই মাসের জন্য ২৫ হাজার ডোজ টিকার চাহিদা পাঠানো হয়েছে। টিকা সরবরাহ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আক্রান্ত এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।


প্রকাশিত: July 16, 2026 | সময়: 5:04 am | সুমন শেখ