সর্বশেষ সংবাদ :

বিশ্বকাপের ৩ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকোর বিদায়

স্পোর্টস ডেস্ক: ৩২ দলের গণ্ডি পেরিয়ে এবারই প্রথম মাঠ মাতাচ্ছে ৪৮টি দল। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো প্রায় এক দশক আগে যখন ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারে বসেছিলেন, তখন থেকেই বুনেছিলেন এই মহাযজ্ঞের স্বপ্ন। রেকর্ড ১০৪ ম্যাচের এই মেগা টুর্নামেন্ট যখন মাঝপথে, ঠিক তখনই ফুটবল দেবতা এক অদ্ভুত আর নিষ্ঠুর চিত্রনাট্য লিখে বসলেন।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল বা শেষ আটের লড়াই যখন শুরু হতে যাচ্ছে, তখন গ্যালারির দিকে তাকালে দেখা যাবে এক অদ্ভুত শূন্যতা। গ্যালারি কাঁপানো তিন স্বাগতিক দেশের একটিও নেই এই তালিকায়। ঘরের মাঠে বীরত্বের গল্প লেখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল তিন দেশ, কিন্তু শেষ ষোলোর মঞ্চেই একে একে ঝরে গেল তিনটি ব্যবচ্ছেদ।
বিদায়ের এই করুন সুর প্রথম বেজেছিল ৪ জুলাই, হিউস্টনের মাঠে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফুটবল খেলে আশা জাগিয়েছিল কানাডা। কিন্তু শেষ ষোলোর নকআউট ম্যাচে মরক্কোর জমাট ডিফেন্স আর ক্ষীপ্র গতির সামনে তারা যেন খেই হারিয়ে ফেলল। মরক্কোর একের পর এক আক্রমণে দিশেহারা কানাডা ম্যাচটি হেরে বসল ৩-০ গোলে। ঘরের মাঠের হাজারো দর্শককে স্তব্ধ করে দিয়ে সবার আগে বিদায় নিল তারা।
কানাডার বিদায়ের ঠিক একদিন পর স্তব্ধ হওয়ার পালা ছিল মেক্সিকোর। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে তখন টানটান উত্তেজনা। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে উত্তেজনার কোনো কমতি ছিল না। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। ঘরের মাঠের চেনা পরিবেশ আর লড়াকু মানসিকতা নিয়ে মেক্সিকো বুক চিতিয়ে লড়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। রোমাঞ্চে ঠাসা ম্যাচটিতে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেয় মেক্সিকোও। তবে বিদায়ের বেদনা থাকলেও, গত ৪০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে এটাই ছিল মেক্সিকোর সেরা সাফল্য।
কানাডা আর মেক্সিকোর পতনের পর ফুটবলপ্রেমীদের সবটুকু আশা গিয়ে ঠেকেছিল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর। সিয়াটল স্টেডিয়ামে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হওয়ার আগে মাঠের বাইরের এক নাটকীয়তায় বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক নজিরবিহীন হস্তক্ষেপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়া মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়। ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারকে ঘিরে মার্কিনিরা যখন অলৌকিক কিছুর স্বপ্ন দেখছিল, মাঠের বাস্তব চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন।
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই বেলজিয়ামের তীব্র গতির ফুটবলের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে যেতে থাকল যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ। পুরো ম্যাচে মার্কিন ফুটবলারদের চেনা ছন্দটাই উধাও হয়ে গিয়েছিল। বেলজিয়ামের চার্লস ডি কেটেলিয়ারের জোড়া গোলে ম্যাচটি ৪-১ ব্যবধানে জিতে নেয় বেলজিয়াম। বালোগুন পুরো ম্যাচে কোনো প্রভাবই রাখতে পারেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পরাজয়ের সাথে সাথেই শেষ হয়ে গেল ঘরের মাঠে অন্তত একজন স্বাগতিককে কোয়ার্টার ফাইনালে দেখার শেষ আশাটুকুও। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই ফুটবল উৎসবে এখন স্বাগতিকরাই কেবল দর্শক। মাঠের বাইরে হয়তো উৎসব চলবে, কিন্তু মাঠের সবুজ ঘাসে নিজেদের প্রিয় দলকে দেখার আক্ষেপ নিয়ে কোটি কোটি স্বাগতিক ফুটবল ভক্তকে এখন বেছে নিতে হবে অন্য কোনো প্রিয় দল।


প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬ | সময়: ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ