সর্বশেষ সংবাদ :

অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও মোড়ক জব্দ: গোপনে বাড়িতে চলছিল ভুয়া ধানবীজ কারখানা

আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর এলাকার পশ্চিম মানিকপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে গোপনে নিম্নমানের ও মানহীন ধানের বীজ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে প্যাকেট করে বাজারজাত করছিলেন ফিরোজুর রহমান ফিরোজ। খবর পেয়ে তাঁর বাড়িতে থাকা কারখানায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিপুল পরিমাণ ভুয়া বীজের মোড়ক জব্দ করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ফিরোজুর রহমান ফিরোজ নিজ বাড়িতে নিম্নমানের ও মানহীন ধান সংগ্রহ করে বিভিন্ন কোম্পানির নাম ব্যবহার করে বীজ হিসেবে বাজারজাতের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার জাবারীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে ‘স্টার সীড’, ‘বিসমিল্লাহ সীড’ ও ‘পদ্মা সীড’ নামে আকর্ষণীয় মোড়ক তৈরি করেন। পরে সেই মোড়কে ধান ভরে বীজ হিসেবে বিক্রির জন্য প্যাকেটজাত করছিলেন।
খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান এবং জয়পুরহাট জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসের বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা উম্মে ছালমার সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বাড়ির ভেতর থেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ছাপানো বিপুল পরিমাণ মোড়ক, প্যাকেটজাত ধান, ভুয়া বীজের মোড়ক এবং বীজ প্রস্তুতের বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ফিরোজুর রহমানকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, নিজ বাড়িতে অবৈধভাবে কারখানা স্থাপন করে নিম্নমানের ধান বীজ হিসেবে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। এসব নিম্নমানের ধান বীজ হিসেবে বিক্রি হলে কৃষক যেমন প্রতারিত হবেন, তেমনি ফসলের উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। কৃষকদের স্বার্থ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জয়পুরহাট জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা উম্মে ছালমা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো ধরনের অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়াই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ধান বীজ উৎপাদন ও মোড়কজাত করছিলেন। বীজ প্রত্যয়ন ছাড়া কিংবা ভুয়া মোড়ক ব্যবহার করে বীজ বাজারজাত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে জরিমানা করা হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান বলেন, কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করে কেউ যাতে ভুয়া বা নিম্নমানের বীজ বাজারজাত করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।


প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬ | সময়: ৪:১৩ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ