বৃহস্পতিবার, ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: সারা দেশের ন্যায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, নওগাঁর আত্রাই, নাটোরের সিংড়া ও বড়াইগ্রমে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।
পাঁচবিবি: পাঁচবিবিতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাইয়ে ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তরুণ কুমার পাল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডালিম, ডাঃ মিজানুর রহমান, থানার এএসআই শরিফুল ইসলাম ও স্বাস্থ্য সহকারী নজরুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিলেন। উপজেলার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সের ৩৬ হাজার শিশুকে নীল ও লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
আত্রাই: আত্রাইয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. খায়রুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান। সভাপতির বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. খায়রুল আলম। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানা যায়, এবার উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ১৯৩টি কেন্দ্রে এই কর্মসূচি একযোগে পরিচালিত হচ্ছে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এই ক্যাম্পেইনে উপজেলায় মোট ২৫ হাজার ৫৫৮ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ২ হাজার ২৮৪ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২৩ হাজার ২৭৪ জন শিশুকে একটি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ক্যাম্পেইনটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য মোট ৩৮৬ জন স্বেচ্ছাসেবী ও নিয়োজিত কর্মী মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো শিশু যেন এই ক্যাম্পেইন থেকে বাদ না পড়ে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মো. তরিকুল ইসলাম, প্রধান সহকারী মো. শাহী আলম, ক্যাশিয়ার ভানু চন্দ্র দাস এবং এমটি (ইপিআই) মো. রিয়াজুল ইসলাম রাজীবসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
সিংড়া: রবিবার (২৮ জুন) সকাল ৮টায় সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে প্রায় ৫৫ হাজার শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহ মোট ২৮৯ টি কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপ-সচিব গোলাম কিবরিয়া।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুজাহিদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিংড়া ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিলন হোসেন মাস্টার, সাবেক কমিশনার রফিকুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি হিরাদুল ইসলাম হিরোক, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম খোকন জানান, এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ উপজেলার মোট ২৮৯টি কেন্দ্রের (ক্যাম্পেইন) মাধ্যমে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
বড়াইগ্রাম: নাটোরের বড়াইগ্রামে জাতীয় ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস উপজেলার মাঝগাঁও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুকে নীল রংয়ের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে লাল রংয়ের ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মলয় কুমার কুন্ডু, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ জামিউর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা রেহানা পারভীন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক (ইনচার্জ) তাপস কুমার সরকার ও স্বাস্থ্য সহকারী সৈকত ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মলয় কুমার কুন্ডু জানান, উপজেলায় এবারের ক্যাম্পেইনে ৬-১১ মাস বয়সী তিন হাজার ৫শ’ শিশুকে নীল রঙের এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৩৪ হাজার ৯৯০ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। উপজেলা হাসপাতালসহ মোট ১৬৯টি কেন্দ্রে ৩৩৮ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেছেন। সবগুলো কেন্দ্রে একযোগে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান।