শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার :
জমি হস্তান্তর, সাইনিং মানি এবং ফ্ল্যাট নিবন্ধনের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর ও ভ্যাট কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশনের (রেডা) নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রেডার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান কাজী।
তিনি বলেন, ডেভেলপারকে জমি দিয়ে মালিক যে ফ্ল্যাট পাবেন, সেই ফ্ল্যাটের বিপরীতেও ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব আবাসন খাতকে সংকটে ফেলবে।
সংগঠনটির দাবি নতুন অর্থবিলে প্রস্তাবিত এ কর কার্যকর হলে জমির মালিকরা ডেভেলপারদের কাছে জমি দিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়বেন, ফলে নতুন আবাসন প্রকল্প শুরু করা কঠিন হয়ে যাবে।
সাধারণ সম্পাদক বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা রাজশাহীর মতো শহরে আবাসন ব্যবসা মূলত যৌথ উন্নয়ন মডেলের ওপর নির্ভরশীল। এই ব্যবস্থায় জমির মালিক ও ডেভেলপার যৌথ চুক্তির মাধ্যমে ভবন নির্মাণ করেন এবং বিনিময়ে জমির মালিক নির্দিষ্টসংখ্যক ফ্ল্যাট বা আর্থিক সুবিধা পান। নতুন নিয়ম অনুযায়ী জমির মালিক ডেভেলপারের কাছ থেকে যে ফ্ল্যাট বা আর্থিক সুবিধা পাবেন, তার ওপর ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো জমির মালিক যদি ১০ কোটি টাকা মূল্যের ১০টি ফ্ল্যাট পান, তাহলে তাকে প্রায় দেড় কোটি টাকা কর দিতে হবে। এছাড়া সাইনিং মানি, উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি প্রাপ্তি এবং পরবর্তীতে বিক্রির ক্ষেত্রেও এই কর প্রযোজ্য হবে। ফলে জমির মালিকরা ডেভেলপারদের কাছে জমি দিতে আগ্রহ হারাবেন।
তিনি আরো বলেন, কারও যদি দেড় কোটি টাকা কর পরিশোধের সক্ষমতা থাকে, তাহলে তিনি ডেভেলপারকে জমি না দিয়ে নিজেই ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেবেন। সাধারণত সেই আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় জমির মালিকরা ডেভেলপারদের সঙ্গে যৌথ উন্নয়ন চুক্তিতে যান। নতুন করনীতি কার্যকর হলে ডেভেলপারদের জন্য জমি সংগ্রহই কঠিন হয়ে পড়বে। সম্প্রতি নতুন শুল্ক আরোপ এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি টন রড উৎপাদনে খরচ প্রায় ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা বেড়েছে। এর প্রভাব নির্মাণ ব্যয়ের ওপর পড়েছে। রাজশাহীতে আবাসন উদ্যোক্তাদের নির্মাণ ব্যয় প্রতি বর্গফুটে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত গেইনস ট্যাক্স ও লোকাল গভর্ন্যান্স ট্যাক্স মিলিয়ে ফ্ল্যাট নিবন্ধনের খরচ প্রায় ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ফ্ল্যাট কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আবাসন খাতের সঙ্গে ইস্পাত, সিমেন্ট, ইট, আসবাবপত্রসহ ২৬৯টি সহযোগী শিল্প খাত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। আবাসন খাতে স্থবিরতা দেখা দিলে এসব শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বর্তমানে দেশে আবাসন খাতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ সরাসরি এবং প্রায় দেড় কোটি মানুষ পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নতুন প্রকল্প কমে গেলে কর্মসংস্থানের ওপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন রেডা নেতারা। পাশাপাশি মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও একক অঙ্কের সুদে বিশেষ গৃহঋণ চালুরও দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং রেডার সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈসা বলেন, সরকার বিভিন্ন খাত থেকে রাজস্ব আহরণের চেষ্টা করছে। তবে আবাসন খাতে প্রস্তাবিত করের হার অত্যন্ত বেশি। তিনি সরকারের প্রতি বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১৫ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হলে জমির মালিকদের জন্য আবাসন প্রকল্পে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, রেডার সভাপতি তৌফিকুর রহমান লাভলু, সহ-সভাপতি কবির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবা উল বারী সওদাগর, অর্থ সম্পাদক এম.এম. সিহাব পারভেজ, পরিকল্পনা ও তথ্য সম্পাদক উজ্জ্বল কবির, দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ ও ক্রীড়া সম্পাদক মাকসুদুল ইসলাম সুমন এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আখতারুল হুদা রুমেলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।
সানশাইন /শামি