বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমানের ‘ইয়াবা সেবনের’ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের পাশাপাশি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা বিএনপি।
ভাইরাল হওয়া ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, গোপীনাথপুর হাট অফিসের ভেতরে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান কয়েকজন ব্যক্তির উপস্থিতিতে ও সহযোগিতায় আগুনের তাপে একটি যন্ত্র ব্যবহার করে পাইপের মাধ্যমে কোনো পদার্থ গ্রহণ করছেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি সাইদুর রহমান এবং তিনি ইয়াবা সেবন করছিলেন। তবে ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে এবং সেখানে উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মাদক সেবনের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত বলে দাবি করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ভিডিওতে যে যন্ত্র ও পদ্ধতি দেখা যাচ্ছে, তা ইয়াবা সেবনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং তিনি ইয়াবা সেবন করছিলেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, সভাপতির ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে বলে শুনেছি। যদি বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও দলের জন্য বিব্রতকর। একজন পদধারী নেতা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটি নিজেই বলে দাবি করে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমাকে পরিকল্পিতভাবে হাট অফিসে নিয়ে গিয়ে ইয়াবা সেবন করায়। তখন আমি বিষয়টি বুঝতে পারিনি। এটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। আমার ভুল হয়েছে, আমি অনুতপ্ত।
আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ভিডিওটি প্রযুক্তিগতভাবে বিকৃত বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি কি না, তাও যাচাই করা হবে।
একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না।