বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: গত কয়েকদিন ধরে রাজশাহী অঞ্চলে চলমান ভ্যাপসা ও তীব্র গরমে জনজীবন চরমভাবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রখর রোদ, উচ্চ তাপমাত্রা এবং বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক, কৃষক, দিনমজুর ও খোলা আকাশের নিচে কর্মরত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (মঙ্গলবার) রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৫ শতাংশ। এর আগের দিন সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। তবে এই চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যেই একটি বড় স্বস্তির বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনে দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু বেশ সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে রাজশাহীসহ সারা দেশে বৃষ্টিপাত অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে কালবৈশাখী বা ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় দেশের কয়েকটি অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ইতিমধ্যে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বৃষ্টিপাত বাড়লে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি পুরোপুরি কেটে যেতে আরও কিছুদিন সময় লেগে যাবে।
রাজশাহী মহাননগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুপুরের দিকে রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। তীব্র রোদ ও গরমে অনেকেরই হাঁসফাঁস অবস্থা দেখা গেছে। শহরের মোড়গুলোতে ডাব, লেবুর শরবত, আখের রস ও ঠাণ্ডা পানীয় বিক্রির দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নগরীর সাহেববাজার এলাকায় রিকশাচালক রাফিউল ইসলাম বলেন, “সকালে কিছুটা কাজ করা গেলেও দুপুরের পর রাস্তায় থাকা খুব কষ্টকর হয়ে যায়। রোদ আর গরমে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তারপরও সংসারের জন্য কাজ করতে হচ্ছে।” নির্মাণ শ্রমিক শাহিন আলম বলেন, “নির্মাণকাজে সকাল থেকে কাজ করছি। মাথার ওপর প্রচণ্ড রোদ। কয়েকবার বিশ্রাম নিতে হয়েছে। গরমের কারণে কাজের গতি কমে গেছে।”
নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী রেহানা বেগম বলেন, “দিন-রাত সবসময় গরম লাগছে। ফ্যান চালিয়েও স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তায় আছি।” রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন, “ক্লাস ও কোচিংয়ে যাতায়াত করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। রাস্তায় বের হলেই গরমে ঘেমে একাকার হতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থও হয়ে পড়ছে।” এদিকে গরমের কারণে হাসপাতালে ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা, জ্বর ও হিট-এক্সহসশনের রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা পর্যাপ্ত পানি পান, প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে গেলে শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে মানুষের শরীরে অস্বস্তি ও ক্লান্তি বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান করলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম জানান, আগামী কয়েকদিনও গরমের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এই সপ্তাহের ভিতরে বৃষ্টির ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমে যাবে।