সর্বশেষ সংবাদ :

চাটমোহরে মারপিটে আহত ব্যক্তির মৃত্যু, ১ জন আটক

চাটমোহর প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া গ্রামে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের বহিস্কৃত নেতা ও ভেজাল দুধ উৎপাদনকারী আব্দুল মমিন ও তার সহযোগীদের হামলা ও মারপিটে আহত এক ব্যক্তি মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার ৪ জুন দিবাগত রাত ১২ টার দিকে সে মারা যায়। মৃত ব্যক্তি হলেন নটাবাড়িয়া গ্রামের মৃত নুর আলীর ছেলে হাশেম প্রামানিক (৪০)। ভেজাল দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতের বিষয়ে স্থানীয় প্রশানসন ও এনএসআইকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনে কৃষকদল নেতা আব্দুল মমিনরা ঈদের পরের দিন গত ২৯ মে শুক্রবার সকালে নটাবাড়িয়া বাজারে হাশেম প্রামানিক সহ তার স্বজনদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে।
এতে হাশেম প্রামানিক সহ ৭ জন গুরুতর আহত হন। তাদেরকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাশেম প্রামানিক মারা যান। এ ঘটনার পর রাতেই পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে। এসময় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় একজনকে। আটককৃত হলেন নটাবাড়িয়া গ্রামের নওফেল আলীর ছেলে শাহীন হোসেন (৩৫)।
এদিকে ঘটনার পর আহতদের পক্ষ থেকে বারবার থানায় মামলার জন্য অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে মামলা গ্রহণ করেনি। হাশেম প্রামানিকের মৃত্যুর পর পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতেই মারপিটের ঘটনার মামলা নেয়। মামলার বাদী নিহতের ভাগ্নে মৃত ইসমাইলের ছেলে আলহাজ উদ্দিন।
মামলায় কৃষকদল নেতা আব্দুল মমিন সহ ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। এই মামলাতেই দন্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই আবুল কালাম জানায়। শুক্রবার সকালে হাশেম প্রামানিকের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, গত ২৯ মে সকালে ভেজাল দুধ তৈরি ও মমিনের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে কৃষকদলের নেতা আবদুল মমিনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা ভুক্তভোগীদের উপরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন ৭ জন।
বিষয়টি নিয়ে হাশেম প্রামানিক ও আহতদের পক্ষে চাটমোহর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে থানা পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করে। পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কতিপয় নেতা থানায় দেন দরবার করে মামলা নেওয়া ও আসামি আটক না করার জন্য চাপ দেন।
এসময় আব্দুল মমিন তার সাঙ্গোপাঙ্গদের নিয়ে আহত ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যা সহ নানা হুমকি ধামকি দিতে থাকে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে নাঈম হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামলা নেওয়ার অনুরোধ করেন থানা পুলিশকে। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয় না। এরমধ্যে থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফাকে পাবনা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
একইসাথে ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নয়ন কুমার সরকারকে পাবনার বেড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে পদায়ন করা হয়। এরপরই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আহত হাশেম প্রামানিক মারা যান।
ভুক্তভোগীরা আরো অভিযোগ করেন, ভেজাল দুধ তৈরি ও বিক্রি করার অপরাধে একাধিকবার থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মমিনকে জরিমানা করেন। মমিনের পিতা সহ তার এক সহযোগিকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তারা এখনো জামিন পাননি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আব্দুল মমিনরা ভেজাল দুধ উৎপাদনের কারবার অব্যাহত রাখেন।
এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ অলিউর রহমান জানান, পূর্বের বিষয় আমার জানা নেই। আমি এসে অভিযোগ পাওয়ার পরই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মারপিটের সাথে সম্পৃক্ত একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদেরও আটক করার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।


প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬ | সময়: ৪:২০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর